শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়েই পালালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট
আজই পদত্যাগ করার কথা। পদত্যাগপত্রে সেই করেছেন আগেই। তবে আজ পদত্যাগের কথা ঘোষিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই সামরিক বিমানে চড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে।
সংবাদ. গোটাবায়া আজ বুধবার দিবাগত রাতে দেশ ছাড়েন। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে তিনি মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছান।
গোটাবায়ার দেশ ছেড়ে পালানোর মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কায় মহা প্রতাপশালী রাজাপাকসে পরিবারের কয়েক দশকের কর্তৃত্বের লজ্জাজনক অবসান ঘটল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায় জানায়, গোটাবায়া তার স্ত্রী ও দুজন দেহরক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে দেশ ছাড়েন।
দিনি আপাতত মালেতে। কিন্তু জানা গেছে, গোটাবায়া সেখান থেকে এশিয়ার অন্য একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
অর্থনৈতিক সঙ্কটে শ্রীলঙ্কার অবস্থা কয়েক মাস ধরে খুব বাজে। এই অবস্থায় গোটাবায়ার পদত্যাগের জন্য বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু কখনোই গোটাবায়া পদত্যাগ করতে রাজি ছিলেন না। বিক্ষোভের মুখে গত মে মাসে তার ভাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকা মাহিন্দা রাজাপাকসেকে পদত্যাগ করতে হয়।
কিন্তু গত শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর পরিস্থিতি বদলে যায়। হঠাৎ বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ টেম্পল ট্রি দখল করে নেয়। এরপর খবর আসে যে প্রাসাদ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
গোটাবায়া এর পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি সেখান থেকে বার্তা দিয়েছিলেন, জনতার দাবি মেনে বুধবারই পদত্যাগ করবেন।
মঙ্গলবার জানা যায়, গোটাবায়া ১৩ জুলাইয়ের তারিখ দিয়ে পদত্যাগপত্রে সই করে ফেলেছেন। স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সংসদে প্রকাশ করবেন। তার আগেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ২০ জুলাই পার্লামেন্টে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেন স্পিকার।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জানা যায়, গোটাবায়া বিমানপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তা হতে দেননি।
ধারণা করা হয়, পদত্যাগের পর সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে গোটাবায়া দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।