সীতাকুণ্ডের আগুন ৫০ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি
৫০ ঘণ্টা পার হয়েছে তবুও সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সোমবার রাত ১০টার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ডিপোতে থাকা অন্তত ১৫টি কনটেইনারের ভেতর এখনো জ্বলছে আগুন। কনটেইনারগুলোর দরজা বন্ধ থাকায় ভেতরে পানি প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কনটেইনারের তালা কেটে দরজা খোলার চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহাকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন জ্বলতে থাকা একটি কনটেইনারের দরজার তালা কাটা হয়। কিন্তু আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দরজা বাঁকা হয়ে যাওয়ায় সেটি খোলা যাচ্ছিল না। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর দরজা খুলে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। জ্বলতে থাকা অন্য কনটেইনারগুলোর আগুনও একইভাবে নেভানোর চেষ্টা করছেন তারা।
ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরো জানান, এখন জ্বলতে থাকা কনটেইনারগুলোর সবকটিতেই রফতানি পোশাক রয়েছে। রাসায়নিকের কনটেইনারগুলো আগুন লাগার স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে রাতের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসকরা বলছেন, আগুনে দগ্ধদের বেশিরভাগের চোখ ও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিট ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন অর্ধশতাধিক। বার্ন ইউনিটে আসন সংকটের কারণে ৩১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, নিহতদের মধ্যে ২১ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে ৩৭ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার দিনভর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্থাপিত বুথে এসব নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। এ সময় বুথের সামনে ভিড় জমান নিখোঁজদের স্বজনরা।