শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

শারীরিক স্থুলতা ইসলামে অপছন্দনীয়

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 07 এপ্রিল 2026, 10:22 দুপুর • 102 বার পঠিত
শারীরিক স্থুলতা ইসলামে অপছন্দনীয়

ইসলাম সব বিষয়ে মধ্যপন্থা পছন্দ করে। শরীরের স্বাস্থ্যের বিষয়েও মধ্যপন্থার নির্দেশ দেয়। পরিমিত খাবার, হাঁটা-চলা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর ঠিক রাখার প্রতি উত্সাহ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম অধিক স্থুলতা ও মুটিয়ে যাওয়াকে অপছন্দ করে। হাদিসের বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শরীর মোবরাক বেশি চিকনও ছিল না, আবার মোটাও ছিল না। 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি সুন্দর কাউকে দেখিনি, যেন সূর্য তাঁর ললাটে বিচরণ করছে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে দ্রুতগতির হাঁটা কাউকে দেখিনি, যেন জমি তার জন্য গুটিয়ে যেত। আমি তাঁর সাথে হেঁটে হাফিয়ে যেতাম, অথচ তাঁর কিছুই হতো না। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৮) 

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় স্ত্রী আয়েশা (রা.)-এর সাথে নিজে দুই-দুই বার দৌড়প্রতিযোগিতা দেওয়ার ঘটনা তো সকলেরই জানা। তা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদেরকেও পরস্পরে দৌড়প্রতিযোগিতায় লাগাতেন। 

শারীরিক স্থুলতা অকল্যাণের নিদর্শন

ইমরান ইবনে হুছাইন (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, এরপর যারা তাদের সাথে মিলিত হবে, এরপর যারা এদের সাথে মিলিত হয়ে আসবে। অতঃপর এমন এক যুগ আসবে যাদের (অধিকাংশ) আমানত রক্ষা করবে না, বরং খেয়ানত করবে, আর না দেখে (মিথ্যা) সাক্ষ্য দেবে, মানত পুরো করবে না। আর তাদের মধ্যে স্থুলতা ও মোটা হওয়া প্রকাশ পাবে। (বুখারি, হাদিস : ২৬৫১)

সহিহ বুখারির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার আল্লামা আইনি (রহ.)-এর ব্যাখ্যায় লিখেন, তখন খাদ্যদ্রব্যের প্রাচুর্য হবে, আর তারাও প্রয়োজনের অধিক হরেক রকম খাদ্যাভ্যাসের দরুন মুটিয়ে যাবে। 

জাদা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মোটা মানুষ দেখতে পেলেন। তখন তিনি তার ভুড়ির দিকে আঙ্গুলে ইশারা করে বললেন, ‘এটি না থাকলে তোমার জন্য কল্যাণকর হতো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৫৮৬৮, হাদিসটিকে ইমাম হাকেম ও হাফেজ জাহাবি রহ. সহিহ বলেছেন)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, বস্তুত ঈমানদাররা এক ভূড়িতে খায়, আর কাফের-মুনাফিকরা সাত ভূড়িতে খায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৯৪)

সাহাবিদের দৃষ্টিতে শারীরিক স্থুলতা

আমিরুল মুমিনিন উমর ফারুক (রা.)-এর কাছে জনৈক মোটা ব্যক্তি আসলো, যার শরীর যেন গোস্তের স্তূপ, আর সে অধিক স্থুলতার কারণে ‘আ-হ আ-হ’ (তথা অস্বাভাবিক আওয়াজ) করছিল। উমর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? সে বললো, হে আমিরুল মুমিনিন! এটা হলো আল্লাহপ্রদত্ত বরকত। উমর (রা.) বলেন, ‘অসত্য, এটি বরং আল্লাহর আজাব।’ (আলবিদাউ ওয়ান্নাহইউ আনহা : বর্ণনা নং ২০৩)

তাবেয়ি ছাবিত বুনানি (রহ.) বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.)-এর কাছে প্রায়সময় শিশুদের দোয়া নেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হতো। একদা একটি মেয়েশিশুকে আনা হলো যে অস্বাভাবিক মোটা ছিল। তখন তিনি মেয়েটির অভিভাবকদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তাকে আটা দিয়ে এভাবে ঠেসে ভরেছো কেন? (আলবিদাউ ওয়ান্নাহইউ আনহা : বর্ণনা নং ১৯৯)

মাকহুল দিমাশকি (রহ.) বর্ণনা করেন, উমর ফারুক (রা.) শামবাসীর কাছে এই নির্দেশনামা লিখে পাঠালেন যে, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাতার, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড় শিখাও।’ (ফাজায়েল রমি ফী সাবীল্লিল্লাহ : বর্ণনা নং ১৫) 

অপর একটি বর্ণনায় এসেছে- খলিফা উমর রা. মুসলিমদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা ঘোড়ায় লাফিয়ে উঠে। (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস নং ৩০১) 

এমনকি খলিফা উমর (রা.) নিজেও ঘোড়ায় চড়তে লাফ দিয়ে উঠা-নামা করতেন। (আলমুজামুল কাবির : হাদিস নং ৫৫) 

মুসলিম জাহানের মহান খলিফা হয়েও এমন আচরণ করতে তিনি কোনো অসম্মানবোধ করতেন না। 

আজ মুসলিমরা অন্যান্য দীনি বিষয়ের ন্যায় তাদের শররীরচর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ সবকও ভুলে গিয়েছে। ফলে তারা একটি অলস ও অকর্মণ্য জাতিহিসেবে বিশ্বে অবহেলিত হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা সব মুসলিমকে দ্বীন-ঈমান, ইলম ও চেতনার সাথে এ বিষয়েও সচেতন করুন! আমিন!