সাজেকে পুড়েছে কটেজসহ ৯৫ স্থাপনা, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৫টি স্থাপনা পুড়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার দুপুরে পর্যটনকেন্দ্রের ‘অবকাশ ম্যানুয়েল রিসোর্ট’সহ আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানিয়েছেন, আগুন মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনের ঘটনায় সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
পানি সংকটে নেভানো সম্ভব হয়নি দ্রুত
সাজেক ভ্যালিতে আগুন নেভানোর কাজে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সঙ্গে জেলা ইউনিটও কাজ করেছে। তবে স্থানীয়দের মতে, পানি সংকটের কারণে আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে সময় লাগায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেছে।”
১৬৭ নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাঙ্গা লুসাই বলেন, “আগুনে আমার বসতবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে গেছে।”
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, “প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ চলছে।”
পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
রাত সাড়ে ৮টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাঠান মো. সাইদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হলো।”