শাহবাজ শরিফই পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী
শাহবাজ শরিফকেই পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে ইমরান খান অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হারানোর পর দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন দেখা দেয়। সোমবার নতুন প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে গেল পাকিস্তান।
এদিন দুপুর দুইটায় পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হয়। তিনটায় ছিল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি। সেই ভোটাভুটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাহবাজ নির্বাচিত হন।
শাহবাজ পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এর সভাপতি। ইমরান খানকে গদি ছাড়া করতে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।
তার অবশ্য একজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিনি শাহ মাহমুদ কুরেশি। ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর ভাইস চেয়ারম্যানে মাহমুদ কুরেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
কিন্তু কুরেশি তো বটেই পিটিআইয়ের সব সদস্য অধিবেশন বয়কট করেন। এতে করে শাহবাজের সামনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৭২ ভোট হলে চলতো। শাহবাজ সেখানে পেয়েছেন ১৭৪ ভোট।
গত ৪ এপ্রিলই বিরোধীরা নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজের নাম ঘোষণা করেছেন। শাহবাজ বিরোধীদলীয় নেতা ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সভাপতি। শনিবার মধ্যরাতে ইমরান ক্ষমতা হারানোর পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলীয় জোট থেকে শাহবাজ প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়েছিলেন।
সম্প্রতি সারা বিশ্বে খুব পরিচিতি পেয়েছেন শাহবাজ। যেটি আগে তার ছিল না। স্বল্প পরিচিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই।
শাহবাজের দক্ষ প্রশাসক হিসেবে সুনাম আছে। পাঞ্জাব প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি তিন দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক দল পরিচালনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে আসছেন শাহবাজ। দুর্নিতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে নওয়াজ শরিফ লন্ডন চলে গেলেন। এরপর তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) চালোনার দায়িত্ব শাহবাজের ওপর এসে পড়ে।
১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ক্ষমতার সময় জেল খাটতে হয় শাহবাজকে। পরের বছর সৌদি আরবে নির্বাসন পান। সেখানে থাকতে শুরু করেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে ২০০৭ সালে দেশে ফিরে যান। পরের বছর নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতে পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রীও হয়ে যান।
১৯৫১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শাহবাজ লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। লাহোর সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পারিবারিক ব্যবসার দিকেই যুক্ত ছিলেন। সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ১৯৮৫ সালে লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হয়েছিলেন শাহবাজ শরিফ।