শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
সাহাবা

সাহাবায়ে কেরামের পারিবারিক জীবন

ড. মো: সাইফুল ইসলাম • 06 সেপ্টেম্বর 2026, 02:29 রাত • 64 বার পঠিত
সাহাবায়ে কেরামের পারিবারিক জীবন

ভূমিকা

মানুষ একা থাকার জন্য সৃষ্টি হয়নি। তার জীবনের পথে একজন সঙ্গী প্রয়োজন—যার সঙ্গে সে সুখ ভাগ করবে, দুঃখের ভার লাঘব করবে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে এবং সবচেয়ে বড় কথা, দুনিয়ার পথ অতিক্রম করে আখিরাতের সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

কিন্তু আধুনিক পশ্চিমা সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিবাহ ও পরিবারব্যবস্থা সেখানে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিস্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতার ধারণা বিবাহের প্রয়োজনীয়তাকেই অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অনেকে বিবাহ ছাড়াই নারী-পুরুষের একসঙ্গে বসবাসকে স্বাভাবিক মনে করছে, অনেকে দীর্ঘমেয়াদি বৈবাহিক বন্ধনের পরিবর্তে সাময়িক সম্পর্ককে বেছে নিচ্ছে। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ, একক অভিভাবক পরিবার এবং একাকী জীবনযাপনের প্রবণতা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। অর্থাৎ স্বাধীনতার বিস্তার ঘটলেও মানুষের স্বাভাবিক সঙ্গ, স্থায়ী পারিবারিক বন্ধন ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন কিন্তু বিলীন হয়নি।

এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করায়—মানুষের জন্য প্রকৃত ও কল্যাণকর দাম্পত্যব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত?

ইসলাম এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে। ইসলামে বিবাহ নিছক একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র বন্ধন, যার উদ্দেশ্য শুধু যৌবনের চাহিদা পূরণ বা বংশধারা রক্ষা নয়; বরং প্রশান্তি, ভালোবাসা, দয়া, দায়িত্ববোধ এবং আখিরাতের পথে পারস্পরিক সহযোগিতা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, 

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً

তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।—সূরা আর-রূম : ২১

অতএব, একজন পুরুষ যখন একজন নারীকে বিবাহ করে, তখন সে শুধু একজন স্ত্রী লাভ করে না; বরং একজন জীবনসঙ্গী ও সহযাত্রী লাভ করে। একইভাবে একজন নারীও শুধু একজন স্বামী লাভ করেন না; তিনি এমন একজন সঙ্গী লাভ করেন, যার সঙ্গে তাঁর দুনিয়ার জীবন যেমন যুক্ত, তেমনি আখিরাতের সফলতার পথও সম্পর্কিত।

আর ইসলামী দাম্পত্যের এই আদর্শ সবচেয়ে সুন্দর ও বাস্তব রূপে ফুটে উঠেছিল সাহাবায়ে কেরামের পারিবারিক জীবনে। তাঁদের ঘর ছিল ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ব, সবর ও আল্লাহভীতির এক অনন্য বিদ্যালয়। সেই ঘরগুলোর দিকে ফিরে তাকানোই আজকের মুসলিম পরিবারের জন্য হতে পারে এক নতুন পথের সন্ধান।

আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য সম্পর্ককে অত্যন্ত চমৎকার একটি উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন,

وَنِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُم مُّلَاقُوهُ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো এবং নিজেদের জন্য আগাম কিছু পাঠিয়ে দাও। আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমরা অবশ্যই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।—সূরা আল-বাকারা : ২২৩

‘শস্যক্ষেত্র’ কেন?‘حَرْثٌ’ অর্থ শস্যক্ষেত্র—যেখানে মানুষ ভবিষ্যতের ফসলের প্রত্যাশায় বীজ বপন করে।

কুরআনের এই উপমার মধ্যে দাম্পত্য জীবনের একটি গভীর দর্শন রয়েছে। একটি শস্যক্ষেত্রের দিকে তাকালে মানুষ শুধু বর্তমান দেখে না; সে ভবিষ্যতের ফসলও দেখে। আজকের শ্রম, যত্ন ও পরিচর্যার ফল সে আগামী দিনে লাভ করবে। দাম্পত্য জীবনও ঠিক তেমন।

বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর জীবন কেবল আজকের সুখ, আনন্দ, খাবার-দাবার, ঘর-সংসার কিংবা পারস্পরিক চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের আজকের আচরণই আগামী দিনের পরিবার তৈরি করবে। তাদের ভালোবাসা থেকে সন্তানদের চরিত্র গড়ে উঠবে, তাদের দ্বীনি পরিবেশ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষা নেবে এবং তাদের পারস্পরিক আচরণই একদিন তাদের নিজেদের আখিরাতের পাথেয় হয়ে দাঁড়াবে।

তাই আল্লাহ তাআলা শুধু বলেছেন,

فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ

তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।

এরপরই বলেছেন,

وَقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُمْ

আর নিজেদের জন্য আগাম কিছু পাঠিয়ে দাও।

অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনের বর্তমান আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করো। এমন কিছু রেখে যাও, যা তোমাদের মৃত্যুর পরও উপকারে আসবে।

এখানেই দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে বের হয়ে একটি বৃহত্তর দায়িত্বে পরিণত হয়।

স্ত্রী শুধু ঘরের মানুষ নন

আমাদের সমাজে অনেক সময় স্ত্রীকে কেবল রান্না, ঘর গোছানো, সন্তান দেখাশোনা কিংবা স্বামীর প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে দেখা হয়। নিঃসন্দেহে এগুলো পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব; কিন্তু একজন স্ত্রীকে শুধু ‘ঘরের মানুষ’ হিসেবে দেখা তার মর্যাদাকে সংকীর্ণ করে ফেলে।

একজন স্ত্রী হলেন স্বামীর জীবনসঙ্গী।

জীবনের আনন্দে যেমন তিনি পাশে থাকবেন, তেমনি দুঃখের সময়ও পাশে দাঁড়াবেন। স্বামী যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন, তখন স্ত্রী তার সঙ্গে পরামর্শ করবেন। স্বামী যখন মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন, তখন স্ত্রী তাকে সাহস দেবেন। আর স্ত্রী যখন কোনো বিপদের সম্মুখীন হবেন, তখন স্বামী তার আশ্রয় হবেন।

এই পারস্পরিক সহযোগিতাই একটি সফল দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য।

আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেছেন,

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।—সূরা আল-বাকারা : ১৮৭

পোশাক যেমন মানুষের দেহকে আচ্ছাদিত করে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং তাকে ঠান্ডা-গরম থেকে রক্ষা করে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের দোষ-ত্রুটি আড়াল করবে, একে অপরকে নিরাপত্তা দেবে এবং একে অপরের জীবনে সৌন্দর্য ও প্রশান্তি নিয়ে আসবে।

ভালোবাসার সঙ্গে দায়িত্বও আছে

দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু শুধু আবেগ দিয়ে একটি সংসার দীর্ঘদিন টিকে থাকে না। ভালোবাসার সঙ্গে প্রয়োজন দায়িত্ববোধ, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং আল্লাহভীতি।

আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশে বলেন, 

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।—সূরা আন-নিসা : ১৯

লক্ষ করুন, আল্লাহ বলেননি শুধু, তাদের ভরণপোষণ করো, তাদের প্রয়োজন পূরণ করো। বরং বলেছেন, 

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

অর্থাৎ তাদের সঙ্গে সুন্দর ও উত্তম পদ্ধতিতে জীবনযাপন করো।

দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য এখানেই—একই ঘরে থাকা যথেষ্ট নয়; বরং সুন্দরভাবে একসঙ্গে থাকা প্রয়োজন।

একজন স্বামী সারাদিন বাইরে পরিশ্রম করে ঘরে ফিরে যদি স্ত্রীকে অপমান করেন, তার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন, তার কথা শুনতে না চান—তাহলে সেই ঘর হয়তো একটি বাড়ি, কিন্তু শান্তির ঘর নয়।

আবার একজন স্ত্রী যদি স্বামীর ক্লান্তি, পরিশ্রম ও সীমাবদ্ধতা বুঝতে না চান, সামান্য বিষয় নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ করেন এবং স্বামীর প্রতি সম্মান হারিয়ে ফেলেন, তাহলেও সংসারের শান্তি নষ্ট হয়।

তাই ইসলামের দাম্পত্য শিক্ষা একতরফা নয়। উভয়ের জন্যই এতে দায়িত্ব রয়েছে।

ঘরের ভেতরেই মানুষের আসল চরিত্র

একজন মানুষ বাইরে অত্যন্ত ভদ্র হতে পারেন। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতে পারেন। সমাজে তার সুনামও থাকতে পারে।

কিন্তু তার প্রকৃত চরিত্রের বড় একটি পরীক্ষা হয় তার ঘরের ভেতরে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, 

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।—জামে তিরমিযী

এ হাদীস একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একটি অসাধারণ মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

মানুষের সামনে ভালো হওয়া সহজ; কিন্তু ঘরের মানুষের সঙ্গে ভালো থাকা কঠিন।

কারণ বাইরের মানুষ আপনার কিছু সময় দেখে; কিন্তু স্ত্রী আপনার প্রতিদিনের আচরণ দেখেন। সন্তান আপনার রাগ, ধৈর্য, ভালোবাসা ও কথাবার্তা প্রতিদিন দেখে। পরিবারের মানুষ আপনার আসল স্বভাব সবচেয়ে বেশি চেনে।

তাই একজন মানুষের দ্বীনদারির প্রমাণ শুধু তার দীর্ঘ নামাজ, দীর্ঘ দাড়ি, সুন্দর পোশাক কিংবা মানুষের সামনে তার বক্তৃতা নয়; বরং তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে কতটা শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা পাচ্ছেন—এটিও তার দ্বীনদারির গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়।

দ্বীনদার হওয়া মানে কঠোর হয়ে যাওয়া নয়

অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে—মানুষ যখন দ্বীনের পথে আসে, তখন তার স্বভাব রুক্ষ হয়ে যায়। সে সবসময় কঠোর কথা বলে, হাসে না, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে না এবং ঘরের পরিবেশকে ভারী করে রাখে।

এটি ইসলামের শিক্ষা নয়।

দ্বীন মানুষকে আল্লাহভীরু করবে, কিন্তু নিষ্ঠুর করবে না। দ্বীন মানুষের অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করবে, কিন্তু ভালোবাসা কেড়ে নেবে না। বরং প্রকৃত দ্বীন মানুষের চরিত্রকে আরও সুন্দর করবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا

মুমিনদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ সে ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। —জামে তিরমিযী

অতএব, একজন মানুষ যত বেশি আল্লাহওয়ালা হবেন, তার আচরণে তত বেশি কোমলতা, ক্ষমা, দয়া ও উত্তম চরিত্র প্রকাশ পাওয়ার কথা।

ভালোবাসা প্রকাশ করাও সুন্নত

ভালোবাসা অন্তরে থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক স্বামী স্ত্রীকে ভালোবাসেন, কিন্তু কখনো মুখে বলেন না। অনেক স্ত্রী স্বামীকে সম্মান করেন, কিন্তু কখনো প্রশংসা করেন না। ফলে ভালোবাসা অন্তরে থাকলেও তার উষ্ণতা সংসারে অনুভূত হয় না।

অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দাম্পত্য জীবনে আমরা ভালোবাসার অসংখ্য সুন্দর দৃষ্টান্ত দেখতে পাই।

তিনি ﷺ তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতেন, হাসি-ঠাট্টা করতেন, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং তাদের আনন্দের বিষয়গুলোতেও অংশ নিতেন।

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন,

كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ ﷺ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ

আমি হায়েয অবস্থায় পান করতাম। এরপর পাত্রটি নবী ﷺ-এর হাতে দিতাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন।—সহীহ মুসলিম  

এটি কেবল একটি পানির পাত্রের ঘটনা নয়; এর মধ্যে রয়েছে ভালোবাসার এক গভীর শিক্ষা।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে শুধু দায়িত্বের সম্পর্ক বানিয়ে ফেললে সেখানে একসময় একঘেয়েমি আসে। কিন্তু ভালোবাসা, স্নেহ, কোমল কথা, হাসি এবং পারস্পরিক সময়, এসব দাম্পত্য জীবনে প্রাণ সঞ্চার করে।

সংসার শুধু দুজন মানুষের নয়বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী যখন একটি পরিবার গঠন করেন, তখন তাদের সামনে আরও বড় একটি দায়িত্ব এসে যায়, সন্তান।

আজকের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কই আগামী দিনের সন্তানের মানসিকতা তৈরি করবে।

বাবা যদি মাকে সম্মান করেন, সন্তান সম্মান শিখবে।

মা যদি বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন, সন্তান শ্রদ্ধা শিখবে।

বাবা-মা যদি মতভেদেও সুন্দর ভাষায় কথা বলেন, সন্তান শিখবে কীভাবে মতভেদ সামলাতে হয়।

আর যদি ঘরে প্রতিদিন ঝগড়া, অপমান, গালাগালি ও অবজ্ঞার পরিবেশ থাকে, তাহলে সন্তান সেই পরিবেশ থেকেই জীবন সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করবে।

সুতরাং দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়; এটি একটি প্রজন্ম নির্মাণের কারখানা।

আজ আপনি আপনার স্ত্রীকে যেভাবে দেখছেন, আগামীকাল আপনার সন্তান নারীকে সেভাবেই দেখতে শিখবে।

আজ আপনি আপনার স্বামীকে যেভাবে সম্মান করছেন, আগামীকাল আপনার সন্তান পুরুষকে সেভাবেই সম্মান করতে শিখবে।

কুরআন যখন বলেছে,

وَقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُمْ

তোমরা নিজেদের জন্য আগাম কিছু পাঠিয়ে দাও।

তখন যেন দাম্পত্য জীবনের সামনে একটি দীর্ঘ ভবিষ্যৎ খুলে দেওয়া হয়েছে।

আজকের সংসার একদিন শেষ হবে। সন্তানরা বড় হবে। যৌবন চলে যাবে। সৌন্দর্য ম্লান হবে। দুনিয়ার ব্যস্ততা থেমে যাবে। একদিন স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে।

তখন সঙ্গে থাকবে না বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ কিংবা দুনিয়ার কোনো অর্জন।

সঙ্গে থাকবে শুধু আমল।

তাই দাম্পত্য জীবন এমন হওয়া উচিত, যেখানে একজন অন্যজনকে শুধু দুনিয়ার সুখী সঙ্গী নয়, বরং আখিরাতের সফলতার সহযাত্রী হিসেবে গড়ে তুলবে।

যে স্বামী স্ত্রীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, স্ত্রী স্বামীকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়; যে স্বামী স্ত্রীর কষ্ট বোঝে, স্ত্রী স্বামীর ক্লান্তি বোঝে; যে দুজন পরস্পরের ভুল ক্ষমা করে, একে অপরের দোষ ঢেকে রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সংসার পরিচালনা করে—সেই ঘরই প্রকৃত অর্থে শান্তির ঘর।

কারণ সফল দাম্পত্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য শুধু—“আমরা সুখে আছি” এটি নয়।

বরং—আমরা দুজন একসঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আছি এবং একসঙ্গে জান্নাতে যেতে চাই। এটাই হওয়া উচিত একজন মুসলিম স্বামী-স্ত্রীর সবচেয়ে বড় যৌথ স্বপ্ন।

নবী ﷺ-এর ঘর: ভালোবাসা, মমতা ও সাহচর্যের অনুপম বিদ্যালয়

দাম্পত্য জীবনের আদর্শ খুঁজতে গেলে আমাদের প্রথমেই ফিরে যেতে হয় সেই ঘরে, যে ঘর ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঘর—রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘর।

তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল। তাঁর ওপর ছিল উম্মতের হেদায়েতের দায়িত্ব। দিনের অধিকাংশ সময় কেটেছে দাওয়াত, ইবাদত, শিক্ষা, জিহাদ, উম্মতের চিন্তা ও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্কের মধ্যে। কিন্তু এতসব দায়িত্বের পরও তাঁর ঘরের মানুষ তাঁর কাছ থেকে ভালোবাসা, কোমলতা ও আপনত্বের অনুভূতি পেতেন।

এখানেই ইসলামের দাম্পত্য জীবনের এক অসাধারণ শিক্ষা।

দ্বীনদারির অর্থ এই নয় যে মানুষ ঘরে কঠোর হয়ে যাবে। বরং প্রকৃত দ্বীনদারি মানুষের চরিত্রকে কোমল করে, তার আচরণকে সুন্দর করে এবং তার অন্তরে পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

এই হাদীসটি শুধু একটি উপদেশ নয়; এটি একজন মুসলিমের চরিত্র যাচাইয়ের একটি মানদণ্ড।

মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করার আগে নিজের ঘরের মানুষের সঙ্গে সুন্দর হতে হবে। বাইরের মানুষের সামনে হাসিমুখে থাকা সহজ; কিন্তু ঘরে ফিরে ক্লান্তি, রাগ, অভাব ও মতভেদের মধ্যেও স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে উত্তম আচরণ করাই প্রকৃত চরিত্রের পরীক্ষা।

ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, প্রকাশও প্রয়োজন

অনেক মানুষ মনে করেন—“আমি তো স্ত্রীকে ভালোবাসি, তাকে আবার মুখে বলতে হবে কেন?”

কিন্তু ভালোবাসা অন্তরে থাকলেই যথেষ্ট নয়; তার প্রকাশও প্রয়োজন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করতেন। তাঁদের নাম স্নেহের সঙ্গে উচ্চারণ করতেন, তাঁদের আনন্দের বিষয়গুলোতে অংশ নিতেন, তাঁদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করতেন এবং কখনো কখনো তাঁদের সঙ্গে ক্রীড়াতেও অংশ নিতেন।

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন। একবার আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বিজয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আবার প্রতিযোগিতা হলে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিজয়ী হয়ে মজা করে বলেছিলেন,

هَذِهِ بِتِلْكَ

এটি সেদিনের বদলা। —সুনানে আবি দাউদ

এখানে একটি গভীর শিক্ষা আছে।

সংসারকে সবসময় দায়িত্বের ভারে ভারী করে রাখা উচিত নয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত থাকা প্রয়োজন, যেখানে তারা শুধু স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নয়—দুই বন্ধু হিসেবেও একে অপরের সঙ্গে হাসবে, কথা বলবে এবং আনন্দ ভাগ করে নেবে।

স্ত্রীকে শুধু সেবা করার মানুষ ভাবা যাবে না

একজন স্ত্রী সারাদিন সংসারের কাজ করেন। রান্না করেন, সন্তানদের দেখেন, ঘর সামলান, স্বামীর প্রয়োজন পূরণ করেন। অথচ দিনের শেষে যদি স্বামী তার সঙ্গে দুটি ভালো কথা বলার সময়ও না পান, তাহলে সংসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপূর্ণ থেকে যায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন আমাদের অন্য শিক্ষা দেয়।

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 

كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ

“তিনি তাঁর পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন।”

অর্থাৎ নবী ﷺ ঘরে এসে শুধু একজন কর্তৃত্বশীল ব্যক্তির মতো বসে থাকতেন না; বরং পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন।

একইভাবে হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজের কাপড় পরিষ্কার করতেন, নিজের কাজ নিজে করতেন এবং প্রয়োজনীয় কাজে পরিবারের সহযোগিতা করতেন।

ভাবুন!

যিনি সমগ্র উম্মতের নেতা, যাঁর কাছে সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনের শিক্ষা গ্রহণ করতেন, যাঁর দরবারে মানুষের সমস্যার সমাধান হতো—তিনি ঘরের কাজে সহযোগিতা করতে লজ্জা বোধ করেননি।

তাহলে একজন সাধারণ স্বামীর জন্য স্ত্রীর কোনো কাজে সহযোগিতা করা কীভাবে অসম্মানের বিষয় হতে পারে?

ঘরে প্রবেশের সময়ও সুন্নত আছেদাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য বড় বড় কাজের ওপরই নির্ভর করে না। বরং ছোট ছোট আচরণও সংসারে গভীর প্রভাব ফেলে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً

“তোমরা যখন কোনো ঘরে প্রবেশ করবে, তখন পরস্পরকে সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন।”—সূরা আন-নূর : ৬১

একজন স্বামী যখন বাইরে থেকে ঘরে ফিরে প্রথমেই সালাম দেন, তখন তিনি শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করেন না; বরং তিনি নিজের ঘরে আল্লাহর রহমত ও বরকতের একটি পরিবেশ তৈরি করেন।

একটি ‘السلام عليكم’ অনেক সময় সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দিতে পারে।

একটি হাসিমুখ অনেক অভিমান ভেঙে দিতে পারে।

একটি কোমল কথা অনেক দিনের দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

তাই দাম্পত্য জীবনের সংস্কার সবসময় বড় কোনো পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করতে হয় না। কখনো কখনো একটি সালাম দিয়েই শুরু করা যায়।

স্ত্রীর অনুভূতির মূল্য দেওয়া

দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো—একজনের অনুভূতিকে অন্যজন গুরুত্ব না দেওয়া।

স্বামী হয়তো বললেন, “এটা তো কোনো ব্যাপারই না।”

কিন্তু স্ত্রীর কাছে সেটি হয়তো বড় ব্যাপার।

আবার স্ত্রী হয়তো ভাবলেন, “তিনি তো পুরুষ মানুষ, এসব বুঝবেন না।”

এটিও ভুল।

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীদের অনুভূতি বুঝতেন।

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে তিনি বলেছিলেন,

إِنِّي لَأَعْلَمُ إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً وَإِذَا كُنْتِ عَلَيَّ غَضْبَى

“আমি অবশ্যই বুঝতে পারি, তুমি কখন আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকো এবং কখন আমার ওপর অসন্তুষ্ট থাকো।” —সহীহ বুখারী।

এটি কেবল একটি দাম্পত্য কথোপকথন নয়; এটি একজন স্বামীর স্ত্রীর অনুভূতির প্রতি কতটা সচেতন থাকা উচিত তার দৃষ্টান্ত।

স্বামী যদি স্ত্রীর মুখের ভাষা বুঝতে শেখেন, স্ত্রীর নীরবতাও বুঝতে শেখেন, তার ক্লান্তি ও মন খারাপের কারণ জানতে চান—তাহলে অনেক সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়।

হাসি-ঠাট্টাও হতে পারে ভালোবাসার ভাষা

ইসলাম মানুষকে পাথর বানাতে আসেনি। ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক আনন্দ, হাসি ও বিনোদনকে অস্বীকার করেনি; বরং বৈধ আনন্দকে সুন্দর জীবনের অংশ হিসেবে রেখেছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করতেন।

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার পুতুল নিয়ে খেলার ঘটনাও আমাদের সামনে রয়েছে। একবার তিনি তাঁর পুতুলগুলো নিয়ে খেলছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ সেখানে এসে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন করলেন। এমনকি তাঁর একটি খেলনা ঘোড়ার ডানা দেখে রসিকতাও করলেন।

এখানে নবী ﷺ আমাদের শেখাচ্ছেন—স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হলে সবসময় উপদেশের ভাষায় কথা বলতে হবে না। কখনো তার আনন্দের জগতেও প্রবেশ করতে হয়।

স্ত্রী যদি হাসতে চান, তাকে হাসতে দিন।

সে যদি কোনো গল্প বলতে চান, মন দিয়ে শুনুন।

সে যদি কোনো আনন্দের ঘটনা শেয়ার করতে চান, তার আনন্দে শরিক হোন।

কারণ দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা অনেক সময় বড় কোনো উপহার দিয়ে নয়, বরং সময় দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ভালোবাসার সঙ্গে মর্যাদা

দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সম্মানও প্রয়োজন।

যে স্বামী স্ত্রীকে ভালোবাসেন কিন্তু মানুষের সামনে তাকে অপমান করেন, তার ভালোবাসায় ঘাটতি রয়েছে।

যে স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসেন কিন্তু অন্যের সামনে তাকে হেয় করেন, তার ভালোবাসাও পূর্ণ নয়।

কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا

“তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের ওসিয়ত গ্রহণ করো।” সহীহ বুখারী 

নারীর সঙ্গে উত্তম আচরণের এই নববী নির্দেশ শুধু ঘরের শান্তির জন্য নয়; বরং এটি আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়।

স্বামী আমার প্রতিপক্ষ নন; তিনি আমার দুনিয়া ও আখিরাতের পথের একজন সহযাত্রী।

তাহলে অনেক ঝগড়াই শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে।

সাহাবায়ে কেরামের সংসার; ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ত্যাগের জীবন্ত দৃষ্টান্ত

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘর ছিল দাম্পত্য জীবনের সর্বোচ্চ আদর্শ। সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন সেই আদর্শের বাস্তব অনুসারী। তাঁদের কাছে সংসার শুধু পার্থিব সুখের মাধ্যম ছিল না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নন; বরং দ্বীনের পথে পরস্পরের সহযোগী। তাঁদের পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা, ত্যাগ, সবর, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আল্লাহভীতি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট।

হযরত আলী ও ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহুমার সংসার

সাহাবায়ে কেরামের পারিবারিক জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হযরত আলী ও ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহুমার সংসার।

ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয় কন্যা। কিন্তু তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও কষ্টসাধ্য। তিনি নিজ হাতে যাঁতায় আটা পিষতেন এবং পানি বহন করতেন। এতে তাঁর হাতে কষ্টের চিহ্ন পড়ে গিয়েছিল। একদিন তিনি খাদেমের প্রয়োজনের কথা জানাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এলে তিনি তাঁকে ও আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে শয্যাগ্রহণের সময় তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীরের আমল শিক্ষা দেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, 

إِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا فَسَبِّحَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبِّرَا أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ

অর্থ: তোমরা যখন বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে।—সহীহ বুখারী, ৩৭০৫

এই ঘটনা দেখায়, অভাব ও কষ্টের সময়ও মুমিন স্বামী-স্ত্রী আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। তাঁদের জীবনে বিলাসিতা ছিল না; কিন্তু ঈমান, সবর ও আল্লাহর ওপর ভরসা ছিল।

হযরত আসমা রাযিয়াল্লাহু আনহার ত্যাগ ও সহযোগিতাহযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁর স্বামী হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাযিয়াল্লাহু আনহুর সংসারে কঠিন জীবনযাপন করেছেন। তিনি বলেন, 

كُنْتُ أَخْدُمُ الزُّبَيْرَ خِدْمَةَ الْبَيْتِ، وَكَانَ لَهُ فَرَسٌ، فَكُنْتُ أَسُوسُهُ وَأَعْلِفُهُ

আমি যুবাইরের ঘরের কাজ করতাম। তাঁর একটি ঘোড়া ছিল; আমি সেটির দেখাশোনা করতাম এবং তাকে খাবার দিতাম। তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামীর জমি থেকে দূরবর্তী স্থান থেকে খেজুরের আঁটি মাথায় করে নিয়ে আসতেন।—সহীহ বুখারী, ৫২২৪

এ ঘটনা সাহাবিয়াদের ত্যাগ ও সংসার পরিচালনায় সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের কাছে সংসারের দায়িত্ব অপমানের বিষয় ছিল না; বরং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের বোঝা হালকা করার চেষ্টা করতেন।

তবে ইসলামে পারিবারিক দায়িত্ব পারস্পরিক সদাচরণ, সামর্থ্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। কোনো পক্ষকে জুলুম বা অসহনীয় কষ্টের মধ্যে ফেলে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।

স্ত্রীকে পরামর্শের অংশীদার করা

হুদায়বিয়ার ঘটনা স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক পরামর্শের অসাধারণ শিক্ষা বহন করে।

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়ে কেরামকে কুরবানির পশু জবাই ও মাথা মুণ্ডন করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দেওয়ায় রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বললেন,

يَا نَبِيَّ اللَّهِ، اخْرُجْ فَلَا تُكَلِّمْ أَحَدًا مِنْهُمْ حَتَّى تَنْحَرَ بُدْنَكَ وَتَدْعُوَ حَالِقَكَ فَيَحْلِقَكَ

হে আল্লাহর নবী! আপনি বাইরে বের হয়ে যান। তাদের কারও সঙ্গে কথা না বলে আপনার কুরবানির পশু জবাই করুন এবং নাপিতকে ডাকুন, সে আপনার মাথা মুণ্ডন করবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করলেন। তিনি কুরবানির পশু জবাই করলেন এবং মাথা মুণ্ডন করলেন। এরপর সাহাবায়ে কেরামও তাঁকে অনুসরণ করলেন।—সহীহ বুখারী, ২৭৩১

এ ঘটনা প্রমাণ করে, স্ত্রীকে পরামর্শের যোগ্য মনে করা ইসলামী পারিবারিক জীবনের সৌন্দর্যের অংশ। স্ত্রীকে শুধু নির্দেশ পালনকারী হিসেবে না দেখে প্রয়োজনের সময় তাঁর প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মূল্য দেওয়া উচিত।

স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা রক্ষা

দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো একে অপরের গোপনীয়তা রক্ষা করা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমন অনেক কথা ও বিষয় থাকে, যা অন্যের কাছে প্রকাশ করার অনুমতি নেই।

রাসূলুল্লাহ ﷺ কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, 

إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

“কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে অন্তরঙ্গ হয়, স্ত্রীও তার কাছে অন্তরঙ্গ হয়, এরপর সে তার গোপন কথা প্রকাশ করে।”—সহীহ মুসলিম, ১৪৩৭

অতএব স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হলো আস্থা। স্বামী জানবেন, স্ত্রীর কাছে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নিরাপদ; স্ত্রীও জানবেন, স্বামীর কাছে তাঁর গোপনীয়তা নিরাপদ।

পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।—জামে‘ তিরমিযী, ৩৮৯৫

সুতরাং মানুষের সামনে ভালো আচরণ করাই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত চরিত্রের পরীক্ষা ঘরের ভেতরেও হয়। স্ত্রীকে সম্মান করা, তাঁর কষ্ট বোঝা, স্বামীর প্রতি সম্মান দেখানো এবং একে অপরের সঙ্গে কোমল আচরণ করা ইসলামী দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মতভেদ হবে, কিন্তু সীমা অতিক্রম করা যাবে না

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক। দুইজন মানুষ ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তাদের অভ্যাস ও চিন্তায় পার্থক্য থাকতেই পারে। সমস্যা মতভেদে নয়; বরং মতভেদকে অপমান, গালাগালি ও শত্রুতায় পরিণত করায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, 

وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا

মানুষের সঙ্গে সুন্দর কথা বলো।—সূরা আল-বাকারা : ৮৩

নিজের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সুন্দর ভাষায় কথা বলা তো আরও বেশি জরুরি।

রাগ নিয়ন্ত্রণ

দাম্পত্য জীবনের অনেক বড় সমস্যা রাগের মুহূর্তে বলা কিছু কথা থেকে সৃষ্টি হয়। তাই রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ

প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।—সহীহ বুখারী, ৬১১৪

তাই রাগের সময় সঙ্গে সঙ্গে কঠিন জবাব না দেওয়া, কিছুক্ষণ নীরব থাকা এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া অনেক বড় বিপদ থেকে সংসারকে রক্ষা করতে পারে।

ক্ষমা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা

যে সংসারে কেউ কারও ভুল ক্ষমা করতে পারে না, সেখানে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ

তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন?—সূরা আন-নূর : ২২

দাম্পত্য জীবনে সব ভুলের হিসাব ধরে রাখা উচিত নয়। সংশোধনের প্রয়োজন হলে সুন্দরভাবে সংশোধন করতে হবে; আবার এমন অনেক বিষয় আছে, যা ক্ষমা করে ছেড়ে দেওয়াই সংসারের জন্য উত্তম।

সন্তান প্রতিপালন: পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

সাহাবায়ে কেরামের পরিবারে সন্তানদের ঈমান ও চরিত্র গঠনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সন্তান শুধু ভরণপোষণের দায়িত্ব নয়; তার দ্বীন ও আখিরাতের প্রতিও অভিভাবকের দায়িত্ব রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো।—সূরা আত-তাহরীম : ৬

সুতরাং সন্তানকে শুধু খাবার, পোশাক ও দুনিয়াবি শিক্ষার ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়; তাকে ঈমান, নামাজ, আদব ও আখিরাতের চিন্তাও শেখাতে হবে।

স্বামী-স্ত্রীর দ্বীনি সহযোগিতা

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ

মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী পরস্পরের সহযোগী; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে।—সূরা আত-তাওবা : ৭১

এই আয়াতের শিক্ষা দাম্পত্য জীবনেও প্রযোজ্য। স্বামী স্ত্রীকে নামাজ, কুরআন ও নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দেবেন; স্ত্রীও স্বামীকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং হারাম থেকে বাঁচতে সহযোগিতা করবেন।

জীবনসঙ্গীর প্রকৃত কল্যাণকামিতা হলো শুধু তাকে দুনিয়ায় সুখী করা নয়; বরং আখিরাতেও সফল হওয়ার পথে সহযোগিতা করা।

সংসারের মূল ভিত্তি: দায়িত্ববোধ

সাহাবায়ে কেরামের পারিবারিক জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষাগুলোর একটি হলো, শুধু নিজের অধিকার দাবি না করে নিজের দায়িত্বের ব্যাপারেও সচেতন হওয়া।

স্বামী যেমন স্ত্রীর অধিকার আদায় করবেন, স্ত্রীও স্বামীর অধিকার আদায় করবেন। উভয়েই একে অপরের প্রতি সদাচরণ করবেন এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহির কথা স্মরণ রাখবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।—সূরা আন-নিসা : ১৯

এ আয়াত স্বামীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়া, অপমান করা কিংবা তার অধিকার নষ্ট করা ইসলামী দাম্পত্য জীবনের আদর্শ নয়।

সংসার: আখিরাতের প্রস্তুতির ক্ষেত্রসাহাবায়ে কেরামের ঘরগুলোতে দুনিয়ার উপকরণ সীমিত ছিল; কিন্তু আখিরাতের চিন্তা ছিল গভীর। তাঁদের কাছে সংসার ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُمْ

তোমরা নিজেদের জন্য আগাম কিছু পাঠিয়ে দাও।—সূরা আল-বাকারা : ২২৩

স্বামীর হালাল উপার্জন, স্ত্রীর সংসার পরিচালনা, সন্তানদের দ্বীনি তরবিয়ত, পরস্পরের সহযোগিতা, কষ্টের সময় সবর এবং একে অপরকে নেক আমলের দিকে উৎসাহিত করা—সবই সঠিক নিয়তে ইবাদতে পরিণত হতে পারে।

লক্ষ্য: একসঙ্গে জান্নাতে পৌঁছানোমুসলিম দম্পতির লক্ষ্য শুধু দুনিয়ায় একসঙ্গে থাকা নয়; বরং আখিরাতেও একসঙ্গে জান্নাতে পৌঁছানো।

আল্লাহ তাআলা বলেন

ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ

তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ আনন্দিত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করো।—সূরা আয-যুখরুফ : ৭০

তাই স্বামী স্ত্রীকে জান্নাতের পথে সাহায্য করবেন, স্ত্রী স্বামীকে জান্নাতের পথে সহযোগিতা করবেন এবং দুজন মিলে সন্তানদের ঈমান ও আমলের ওপর গড়ে তুলবেন।

শেষ কথা, সাহাবায়ে কেরাম ও সাহাবিয়াদের পারিবারিক জীবন আমাদের শেখায়—সুখী সংসারের জন্য শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে প্রয়োজন তাকওয়া, দায়িত্ববোধ, সবর, ত্যাগ, ক্ষমা ও পারস্পরিক সহযোগিতা।

অভাব এলে পরস্পরকে দোষারোপ নয়; আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। মতভেদ হলে অপমান নয়; সুন্দরভাবে সমাধান করতে হবে। রাগ এলে সীমা অতিক্রম নয়; নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভুল হলে প্রতিশোধ নয়; ক্ষমা ও সংশোধনের পথ বেছে নিতে হবে। আর সন্তানদের শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, আখিরাতের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে।

সফল সংসার সে নয়, যেখানে কোনো সমস্যা নেই; বরং সফল সংসার হলো—সমস্যা এলেও স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হাত ছেড়ে না দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়।

তাঁদের লক্ষ্য ছিল শুধু সুন্দর একটি ঘর নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চিরস্থায়ী জান্নাত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবারগুলোকে ভালোবাসা, রহমত, সবর ও তাকওয়ায় পরিপূর্ণ করুন। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের পরস্পরের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের মাধ্যম বানান এবং পরিবারসহ জান্নাতে একত্রিত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

آمِينَ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ

#মুসলিম বাংলা