শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

শাবান মাসে বেশি রোজা রাখবেন যে কারণে

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 মার্চ 2022, 09:16 সকাল • 666 বার পঠিত
শাবান মাসে বেশি রোজা রাখবেন যে কারণে

শাবান মাস রমজানের আগের মাস। শাবান মাস রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। শাবান মাসের শেষেই রমজানের একফালি চাঁদ দেখা যায় আকাশের সুদূর দিগন্তে।

সারা বিশ্বে তখন বইতে শুরু করে প্রতীক্ষার পবিত্র ও প্রিয় মাহে রমজান। রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা করা ফরজ। এর বাইরে সপ্তাহে, মাসে এবং বছরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনে নফল রোজা রাখার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে সর্বাধিক নফল রোজা শাবান মাসে।

রাসুল (সা.) শাবান বেশি রোজা রাখতেন
রমজানের ব্যাপারে আগ্রহ, গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আল্লাহর রাসুল (সা.) শাবান মাস থেকেই বেশি বেশি রোজা রাখতেন। তিনি এ মাসের বেশির ভাগ দিন রোজা রাখতেন। উসামা বিন জায়েদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছি, হে আল্লাহর রাসুল, শাবান মাসে আপনি যেভাবে রোজা রাখেন, সেভাবে অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতে আমি আপনাকে দেখিনি। ’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজান ও রজবের মধ্যবর্তী এ মাসের ব্যাপারে মানুষ উদাসীন থাকে। এটা এমন মাস, যে মাসে বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। আমি চাই, আল্লাহর কাছে আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি রোজাদার। ’ (নাসাঈ, হাদিস : ২১৭৯)

আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) একাধারে (এত অধিক) সাওম পালন করতেন যে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সাওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে সময় কাটাতেন যে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সাওম পালন করবেন না। আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া কোনো পুরো মাসের সাওম পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোনো মাসে অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯৬৯)

শাবানে যেভাবে রোজা রাখতেন নবীজি
শাবান মাসে রাসুল (সা.)-এর সর্বাধিক রোজা রাখার কথা সিহাহ সিত্তার সব হাদিসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) কখনো কখনো ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখতেন। আমরা বলতাম, তিনি মনে হয় আর কখনো রোজা ছাড়বেন না। আবার কখনো এভাবে রোজা রাখা ছেড়ে দিতেন যে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি মনে হয় আর কখনো রোজা রাখবেন না। রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে আমি রাসুল (সা.)-কে পুরো মাস রোজা রাখতে দেখিনি। শাবান মাসের মতো অন্য কোনো মাসে এত বেশি রোজা রাখতে আমি রাসুল (সা.)-কে দেখিনি।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৫৬)

শাবান মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ইসলামি ইতিহাসেও শাবান মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। মুসলমানদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা এ মাসে ঘটেছিল। 

>>> ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান জিহাদের হুকুম এ মাসে নাজিল হয়। দীর্ঘ সময় মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর জিহাদের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ আসে এ মাসে ।

>>> কেবলা পরিবর্তন। মদীনায় হিজরতের পর মুসলমানরা কিছু দিনের জন্য বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করে। আল্লাহ তায়ালা পুনরায় কাবা শরীফকে মুসলমানদের জন্য কেবলা নির্ধারণ করেন এ মাসে।

>>> বনু মুসতালিকের যুদ্ধ সংঘটিত হয় এ মাসে। মুনাফিকদের বিষাক্ত আক্রমণ থেকে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে পরিত্রাণ দেন এ যুদ্ধের মাধ্যমে। তাছাড়াও বদরে সুগরা সংঘটিত হয় এ মাসে।

শাবান, ফজিলতের মাস হলেও বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রুসুম রেওয়াজের কারণে এ মাসে প্রকৃত আমলের পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এ সব রুসুম রেওয়াজ বন্ধ করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।