রুপালি ইলিশে সোনা ফলছে, দিনে বিক্রি শতকোটি টাকা
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। সরগরম হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের মাছ ঘাট এবং আড়তগুলো। প্রতিদিন বিভিন্ন মাছ ঘাটে ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে প্রায় শতকোটি টাকার। এ যেন রুপালি ইলিশে সোনা ফলছে।
লক্ষ্মীপুরের অন্যতম মাছ ঘাটের মধ্যে রয়েছে- সদরের উপকূল সংলগ্ন মজুচৌধুরী হাট, বুড়ির ঘাট, চররমনী মোহন এলাকা, রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত রামগতি মাছ ঘাট, টাংকী মাছ ঘাট, আলেকজান্ডার মাছ ঘাট এবং শেখ রাসেল ব্রিজ ঘাট। কমলনগরে উপজেলার মতিরহাট, বাত্তিরখাল, কটোরিয়া, লুধুয়া, মাতাব্বরহাটের মাছ ঘাট ও রায়পুরের বেশ কয়েকটি মাছ ঘাট এখন সরগরম। বর্তমানে ঘাটগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠেছে ইলিশের বেচাকেনা।
জানা গেছে, রামগতি উপজেলার মধ্যে প্রধান চারটি মাছ ঘাটের মধ্যে টাংকী ঘাটের অবস্থান প্রথমে। এছাড়া অন্যান্য ঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে নিয়ে যান। এর ফলে ঘাটগুলোর পাশেই গড়ে উঠেছে বরফ কল এবং মাছের আড়ত।
ব্রিজ ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, এখন প্রতিটি এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ এক হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে।
আলেকজান্ডার মাছ ঘাটের আরেক আড়তদার হাজি নেছার আলী জানান, কিছুদিন পর নদীতে অভিযান শুরু হওয়ায় অনেকে বাসাবাড়ির জন্যও এ ঘাট থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান। ফলে ঘাটটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমজমাট থাকে।
এর ফলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে মেঘনায় ইলিশসহ সব প্রকার মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চল মেঘনায় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে করে উপজেলার মাছ ঘাটে বেড়েছে ইলিশের আমদানি। সেইসঙ্গে দামও ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে রয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলায় পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ঘাটে প্রতিদিন প্রায় শতকোটি টাকার ইলিশ বেচাকেনা হয়। জনসচেতনতা এবং সরকারের বিধি-নিষেধ মানার কারণে মেঘনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। সামনে ইলিশের প্রজনন সময়ে সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে চললে আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়বে।