রোজা ও রমজান: পর্ব-৩০: আধুনিক বিজ্ঞান ও রোজার সারমর্ম
উল্লেখিত রিপোর্টে সিয়াম পালনকারীদের গড় ওজন উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে যে, সিয়াম পালন অবস্থায় দুই জনের ওজন প্রায় সাত পাউণ্ড হ্রাস পেয়েছে। একজনের ওজন অপরিবর্তিত। রমযানের একমাস পর সাত জনের ওজন পূর্বাবস্থায় বহাল থাকে। গর্ভবতী মহিলার ওজন চার পাউণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত গর্ভের সন্তানের।
পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দেহের তাপমাত্রা ও ধমনীতে সিয়ামের বিরূপ কোনো প্রভাব পড়ে নাই। রক্তে হিমোগেøাবিনের পরিমাণ সিয়াম রত অবস্থায়ও আগের মতোই ছিল। গড়ে রক্তচাপেরও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। বরং রক্তচাপ (পেসার) নিয়ন্ত্রণে ছিল। সুন্নত ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃ. ১৩৪-১৩৫
সুতরাং সিয়াম আমাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে এতে সন্দেহ নেই। যা আমরা এতোক্ষণে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছি। তারপরও যেসব পিতা-মাতা তাদের সন্তানদেরকে উপযুক্ত বয়সে সিয়াম পালন করতে দিলে সন্তানের স্বাস্থ্য নষ্ট হবে বলে ধারণা করেন, তাদের ধারণা একেবারেই ভুল। এছাড়া আমাদের সমাজের কিছু ভদ্র লোক সিয়াম পালন করছে না। তারা বলছে ‘আমার তো সিয়াম পালনের অভ্যাস নেই, সিয়াম পালন করতে আমার অনেক কষ্ট হয়।’ আর উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা বলছে, এই বয়সে এতো সালাত-সিয়াম দরকার নেই। সামনে কিছুদিন পরেই বিয়ে-শাদি আরো কতো আয়োজন! সালাত-সিয়াম আরও পরেও করা যাবে। এখন একটু মজা করে নেই। তাহলে এখন সিয়াম পালন না করে এর পরিবর্তে কিছু গরীব, মিসকিনদেরকে টাকা-পয়সা বা খাবার দিয়ে দেবো তাতেই হয়ে যাবে।’ এসব মানুষ এমন ভ্রান্ত চিন্তা-চেতনা লালন করে সিয়াম পালন বাদ দিয়ে যেমন করে পরকাল হারাচ্ছে, তেমনি করে ইহকালীন জীবনের সুস্বাস্থ্যকেও হারাচ্ছে। এছাড়া জীবনের তো কোনো গ্যারান্টি নেই। স¤প্রতি ঘটিত কিয়ামতের অন্যতম আলামত হল আকস্মিক মৃত্যু। বর্তমানে হার্ড এ্যাটাক, হাই পেশার এবং ব্যাপক সড়ক দুর্ঘটনার ফলে অধিকহারে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সাহাবী হযরত আনাস (রাদি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- কিয়ামতের অন্যতম আলামত হল আকস্মিক মৃত্যু। আমরা অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছি যে, আগের দিনের মানুষ দুই-তিন দিন পূর্ব থেকেই মৃত্যু ঘনিয়ে আসা সামান্য টের পেত। কিছুদিন বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকত। তখন অসিয়ত লিখিয়ে রাখত। পরিবারের সবার হক যথাযতভাবে বুঝিয়ে দিত। সবার কাছ থেকে দুআ ও বিদায় নিত। সারা জীবনের পাপ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করার সুযোগ পেত। বেশী-বেশী কালিমা ও ইস্তিগফার পাঠ করতে পারত। কিন্তু এখন শুনে থাকবেন যে, সুস্থ সবল পূর্ণ আরোগ্য ব্যক্তি হার্ড এ্যাটাক করে গত রাতে মৃত্যু বরণ করেছে। অমুক মন্ত্রীর ছেলে পাঁচ বন্ধুসহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেছে। অমুক স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সমুদ্র সৈকতে উল্লাস করতে গিয়ে এই পৃথিবীর আপনজনকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছে। নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনে মাকে সালাম দিয়ে বাড়ী থেকে গাড়ীর বহর নিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছে, কিন্তু পরমা সুন্দরীর মুখ দেখার আগেই দুনিয়ার সকল সুখের স্বপ্ন চিনদিনের জন্য খতম করে সে না ফেরার দেশে চলে গেছে। তাহলে এখন সালাত-সিয়াম (সালাত-রোযা) করব না, পরে করে নিব এই কথা বলে পরকালীন সুখ-শান্তি এবং ইহকালীন সুস্বাস্থ্য হারাবার আগেই আমাকে সালাত-সিয়ামসহ ইসলামের যাবতীয় বিধান মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।
মুফতি মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন
সাতাউক মধ্যগ্রাম, লাখাই, হবিগঞ্জ
আমলের কথা জানতে ইউটিউবে সার্চ করুন, 01712961470