শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

রোজা ও রমজান: পর্ব-২২ বিষয়: আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে রোজা

মুফতি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন • 18 এপ্রিল 2022, 03:56 দুপুর • 923 বার পঠিত
রোজা ও রমজান: পর্ব-২২ বিষয়: আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে রোজা

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিটি প্রাণিকে এমনভাবে সৃৃষ্টি করেছেন যে, যদি কোনো প্রাণী নিয়মিত পানাহার না করে তবে তার পক্ষে জীবনধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য পৃথিবীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রতিটি প্রাণিই স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তার স্বভাব-প্রকৃতি অনুযায়ী যথাযত নিয়মে পানাহার করে। কিন্তু সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ মানবই এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। পানাহারে অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মানুষ সেচ্ছায় নিজের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এজন্য অন্যান্য প্রাণিদের তুলনায় মানুষই অধিক রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। অবশ্য মানুষ মহান আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান দ্বারা ঔষধ-চিকিৎসা এবং রোগপ্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে থাকেন। তবে এই পর্যন্ত রোগ নিরাময়ের যত ব্যবস্থা করা হয়েছে এর মধ্যে সিয়াম পালন হচ্ছে সর্বাধিক কার্যকর ব্যবস্থা। এর চেয়ে উন্নত এবং গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেই এবং আর হবেও না। আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সেটা আজ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।


এখানে আমাদেরকে একটা কথা খুব ভালভাবে মনে রাখতে হবে, তা হচ্ছে- ইসলামের আদর্শের সত্যতা ও কল্যাণ প্রমাণের জন্য কোনো ডাক্তার, বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক এবং অমুসলিম পণ্ডিতের মতামত প্রয়োজন নেই। তারপরও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সিয়ামের আলোচনা লিখার উদ্দেশ্য হলো, আমাদের সমাজে কিছু বিজ্ঞান মনষ্ক এবং পন্ডিত ও দার্শনিকের কথা শুনলে সেটাকে আরেকটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য ইসলামের বিধানের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জানার পাশাপাশি ডাক্তার, বিজ্ঞানী এবং অমুসলিম পন্ডিত, দার্শনিকের মতামত জানতে পারলে সেটা হবে সোনায় সোহাগা দেয়ার মতো। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সিয়ামের গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং এর উপকারীতা আলোচনা করার চেষ্টা করছি।


আমরা বিষয়টিকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটু গভীরভাবে বুঝার চেষ্টা করলেই দেখতে পাই যে, মাহে রমযানের সিয়াম পালন করলে মানুষ সুস্থ জীবন লাভ করতে পারে। আধুনিক বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ একথা স্বীকার করেছেন। মাহে রমযানের সিয়াম পালনের কল্যাণের কথা নিশ্চিত হয়েছেন বলেই অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও সিয়াম পালন করছেন। এবার আমরা বিষয়টিকে একটু বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।


প্রফেসর মুর পাল্ডের বিস্ময়ঃ মুর পাল্ড ছিলেন অক্রাফোর্ড ইউনিভার্সিটির একজন খ্যাতনামা প্রফেসর। তিনি নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমি ইসলামের মৌলিক বিধানসমূহের উপর প্রচুর পড়াশোনা করেছি। ইসলামের সিয়াম পালনের বিধানটি পাঠ করার পর আমি অবাক বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এক পর্যায়ে আমি মনে মনে এই ধারণা করলাম যে, ইসলাম যদি এর অনুসারীদেরকে অন্য কিছু শিক্ষা না দিত,তবুও কেবল এই সিয়ামের বিধানটিই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল।’


প্রফেসর মুর পাল্ড আরো বলেন, আমি দীর্ঘদিন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত ছিলাম। সামান্য অনিয়ম হলেই আমার পেট ফেঁপে ফোলে যেত। আমি সিয়ামের উপকারীতা প্রত্যক্ষ করার জন্য মুসলমানদের অনুকরণে সিয়াম পালন করতে লাগলাম। আমি কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলাম। এরপর আমি অব্যাহতভাবে সিয়াম পালন করলাম। বেশ কিছুদিন সিয়াম পালন করার পর আমার পেটের পীড়াসহ আনুসঙ্গিক আরো কিছু জটিলতা দূর হয়ে গেল। আমি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ সুস্থ মানুষ আবিষ্কার করলাম। -নায়ী দুনিয়া; সুন্নত ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃ.-১২৪

 

মুফতি মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন
সাতাউক মধ্যগ্রাম, লাখাই, হবিগঞ্জ
আমলের কথা জানতে ইউটিউবে সার্চ করুন, 01712961470