শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

রোজা ও রমজান: পর্ব- ২০ বিষয়: সিয়াম পালন না করার পরিণাম

মুফতি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন • 17 এপ্রিল 2022, 12:04 রাত • 843 বার পঠিত
রোজা ও রমজান: পর্ব- ২০ বিষয়: সিয়াম পালন না করার পরিণাম

আমরা ইতঃপূর্বে এ কথা বলেছি যে, সিয়াম পালন করা এবং না করার ব্যাপারে মুসলমান চার শ্রেণিতে বিভক্ত। আমরা চার শ্রেণি থেকে প্রথম দুই শ্রেণির আলোচনা করেছি। এখন আমরা তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কথা আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ।


তৃতীয় শ্রেণিঃ 
সেসব মানুষ যারা বিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের সিদ্ধান্ত ব্যতীত অবহেলা বা স্বাস্থ্যহীনতার ভয়ে অথবা শক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি আশংকায় সিয়াম ছেড়ে দেয়। তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি এবং ভয়াবহ পরিণাম। একটি হাদীসে এমন সিয়াম পালনকারীদের প্রতি বদদুআ করে তাদের দুর্ভাগ্যের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। হাদীসে এসেছে- ‘একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বয়ান করার জন্য মিম্বারে উঠছিলেন। মিম্বারে তিনটা ধাপ ছিল। তিনি যখন প্রথম ধাপে উঠলেন, তখন বললেন ‘আমীন’, এর অর্থ হচ্ছে হে আল্লাহ! কবুল করুন। কেন তিনি ‘আমীন’ বললেন, সাহাবায়ে কিরাম (রাদি.) তা বুঝলেন না। দ্বিতীয় ধাপে উঠে বললেন, ‘আমীন’। তৃতীয় ধাপে উঠেও বললেন ‘আমীন’। বয়ান শেষে এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! (সা.) আপনি এমন একটা কথা বললেন যা আর কখনো শুনিনি এবং আমরা বুঝতেও পারিনি।

তখন তিনি ব্যাখ্যা করে বললেন, যখন আমি মিম্বারের প্রথম ধাপে উঠেছি তখন হযরত জিবরাঈল (আ.) বলেছিলেন-
بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمْضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَقُلْتُ آمِيْنَ
‘যে ব্যক্তি রমযান মাস পেল, কিন্তু সে মাসে তাকে ক্ষমা করা হল না, সেই ব্যক্তি   মহান আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত-বিতাড়িত, সে ধ্বংস হোক।’ আমি হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর এই কথার প্রেক্ষিতে ‘আমীন’ বলেছি। যখন আমি মিম্বারের দ্বিতীয় ধাপে উঠেছি তখন হযরত জিবরাঈল (আ.) বলেছিলেন-
بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَقُلْتُ آمِيْنَ
‘যার সামনে আপনার নাম উল্লেখ করা হল আর সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না, সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত-বিতাড়িত, সে ধ্বংস হোক।’ আমি হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর এই কথার প্রেক্ষিতে আমীন বলেছি।

এই জন্যই যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নাম আসে অর্থাৎ ‘রাসূল’ বা ‘মুহাম্মাদ’ এই শব্দগুলো আমাদের সামনে আসে উল্লেখ করা হয়, তখন সালাত (দরুদ) পড়তে হয়। যে কোন সালাত পাঠ করা যায়। সবচেয়ে ছোট ও সহজ সালাত হল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নাম আসলে সালাত পাঠ করা অত্যাবশ্যক। একবার সালাত প্রেরণের মধ্যে অনেক রহমত ও বরকত রয়েছে। সুতরাং এতো বড় সুযোগ থাকা সত্বেও কেউ অবহেলায় এই আমল ছেড়ে দিলে তার ধ্বংস হওয়া উচিত।

এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন আমি তৃতীয় ধাপে উঠেছি তখন হযরত জিবরাঈল (আ.) বলেছিলেন-
بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَاه عِنْدَهُ الْكِبَرِ أَوْ أَحَدَهُمَا لَمْ يُدْخِلَاه الْجَنَّةَ فَقُلْتُ آمِيْنَ
‘যে মাতা-পিতা উভয়কে অথবা তাদের একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল, আর তাদেরকে সেবা দিয়ে খুশি করে জান্নাত লাভ করতে পারল না, সে মহান আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত-বিতাড়িত, সে ধ্বংস হোক।’ আমি হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর এই কথার প্রেক্ষিতেও আমীন বলেছি। শুয়াবুল ঈমান, হাদীস-১৫৭২; ইমাম বুখারীর রচিত আত তারিখুল কাবীর, হাদীস-৯৫৪ 


প্রিয় উপস্থিতি! তাহলে বুঝা হয়ে গেল যে, যারা মাতা-পিতার সেবা করে না, নবীর নাম শুনলেও দরুদ পাঠ করে না, রমযান মাস পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারে না, তারা অবশ্যই মহান আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত-বিতাড়িত, তারা ধ্বংস প্রাপ্ত। তাদের ধ্বংসের জন্য যেমনভাবে জিবরাঈল (আ.) বদদুআ করেছেন, তেমনিভাবে সেই বদদুআতে আমাদের নবী (সা.) সমর্থনও করেছেন। তাও মসজিদে ভেতরে এবং মিম্বারে উঠে। সুতরাং যারা সিয়াম পালন করে না তাদের পরিণতি কি হবে তা খুব সহজেই বুঝা যায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এসব ধ্বংস থেকে রক্ষা করুন। 

 


মুফতি মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন
সাতাউক মধ্যগ্রাম, লাখাই, হবিগঞ্জ
আমলের কথা জানতে ইউটিউবে সার্চ করুন, 01712961470