শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

রমজান ঘিরে বাড়ছে আমদানি, তবু শঙ্কা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 31 জানুয়ারী 2021, 11:38 দুপুর • 308 বার পঠিত
রমজান ঘিরে বাড়ছে আমদানি, তবু শঙ্কা

কভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে অনেক পণ্য আমদানি কমেছে। মূলত শিল্প-কারখানার উৎপাদন কমে আসা; লকডাউনের অচলাবস্থার কারণে এসব পণ্য আমদানি কমেছে কিন্তু ব্যতিক্রম ভোগ্য পণ্য আমদানি। কভিড সময়ে দেশে ভোগ্য পণ্যের চাহিদা কমলেও আমদানি একেবারেই কমেনি; কিছু পণ্যের আমদানি উল্টো বেড়েছে।

অথচ পণ্য আমদানি না কমলেও কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই। যেমন—ভোজ্য তেল, পাম ও সয়াবিন মিলিয়ে ভোজ্য তেলের মোট আমদানি ২০১৯ সালের চেয়ে মাত্র কয়েক হাজার টন কমেছে কিন্তু দাম বাড়া থেমে নেই। নানা উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সরকার।

আবার কিছু পণ্যের আমদানি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে; যেমন চিনি। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে চিনি আমদানি চার লাখ টন বাড়লেও দাম কমেনি, উল্টো বাড়ছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চালের দাম বাড়ায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আসা শুরু হয়েছে; বাজারে এসব চাল পৌঁছেছে; দামের রোধ হয়েছে ঠিকই কিন্তু এখনো দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে রমজান; আর এই রমজানে বাড়তি চাহিদা থাকে বলেই অন্তত দুই মাস আগে থেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য আমদানি করে মজুদ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কভিড ধাক্কা কাটিয়ে ব্যবসায়ীরা এবারও রমজানের আগাম পণ্য আনতে শুরু করেছেন। অন্য রমজানের চেয়ে এবার ব্যতিক্রম হচ্ছে, কভিডের কারণে গত বছরের অবিক্রীত বিপুল ভোগ্য পণ্য রয়েই গেছে; তার ওপর পণ্য আমদানিও স্বাভাবিক আছে। পর্যাপ্ত আমদানির পরও শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।

বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরবরাহ সংকটের ঘাটতি তেমন দেখছি না। তবে এটা বলতে পারি কভিডের সময় গত রমজানে ভোগ্য পণ্যের দাম যেভাবে সহনশীল এবং একেবারে নিয়ন্ত্রণে ছিল সেটা এবার হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কভিড ধাক্কার পর চাহিদা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে ভোগ্য পণ্যের দাম বেড়েছে। আর খালি কনটেইনার সংকটের কারণে পণ্য আমদানি খরচও বাড়ছে। ফলে সরকারের উচিত সেই দিকটায় একটু নজরদারি করা। আর বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির সময় যাতে খরচ কমে সেই পদক্ষেপ নেওয়া।’

রমজান ঘিরে এরই মধ্যে ছোলা, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনিভর্তি বেশ কিছু জাহাজ চলে এসেছে; যেগুলো থেকে পণ্য নামানো হচ্ছে। তবে মূল পণ্য আসা শুরু হবে মার্চের মধ্যভাগ থেকে। খাতুনগঞ্জ আমদানিকারক পায়েল ট্রেডার্সের মালিক আশুতোষ মহাজন বলেন, ‘এখন বাজারে ছোলার দাম একেবারেই মন্দা। দুই মাস আগে যে ছোলা কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি করেছিলাম এখন সেই ছোলা ৫২ টাকায় নেমেছে। দাম তো কমেছে, ক্রেতাও নেই। মসুর ডালের কেজিও দুই-তিন টাকা কমেছে।’