শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
খেলা

রেকর্ডময় ইনিংসে যেখানে সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন ব্রুক

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 25 ফেব্রুয়ারি 2026, 11:13 দুপুর • 157 বার পঠিত
রেকর্ডময় ইনিংসে যেখানে সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন ব্রুক

প্রথমবার তিন নম্বরে খেলতে নেমেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি, ইনিংসটি এমনিতেই স্মরণীয় থাকবে হ্যারি ব্রুকের কাছে। দলকে সেমি-ফাইনালে তোলার ইনিংস বলেও এটি হয়ে থাকবে স্পেশাল। এছাড়াও এই এক ইনিংসেই অনেক কীর্তি গড়েছেন তিনি, নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডে। যেখানে একটি জায়গায় ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসানকেও।

পাল্লেকেলেতে মঙ্গলবার পাকিস্তানের ১৬৪ রান টপকে ইংল্যান্ডের ২ উইকেটের জয়ে ৫১ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন ব্রুক। তার দুর্দান্ত ইনিংসে চলতি বিশ্বকাপে সবার আগে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে ইংলিশরা।

ব্রুকের ছোঁয়ায় যত কীর্তি :

অনন্য কীর্তি (১)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ আসরে কোনো অধিনায়কের ব্যাটে প্রথম সেঞ্চুরি এটিই। এতদিন সর্বোচ্চ ছিল ২০১০ আসরে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের ৯৮।

ইংলিশ অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল গত আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জস বাটলারের ৮৩।

অনন্য কীর্তি (২)

শুধু বিশ্বকাপে নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই এই প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন কোনো ইংলিশ অধিনায়ক।

আগের সর্বোচ্চ ৯১ ছিল ওয়েন মর্গ্যানের, ২০১৯ সালে নেপিয়ারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।

অনন্য কীর্তি (৩)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও ব্রুক। এখানেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসানকে। দুজনের ইনিংসেরই ভেন্যু একই!

২০১২ আসরে পাল্লেকেলেতে ৫৪ বলে ৮৪ করেছিলেন সাকিব। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চে ইনিংস ছিল এতদিন সেটিই। ২০২২ আসরে মেলবোর্নে ভিরাট কোহলির ৮২ রানে সেই স্মরণীয় ইনিংস আছে এই তালিকার তিনে।

ইংল্যান্ডের তৃতীয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি আগে ছিল দুটি। ২০১৬ আসরে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১১৬ করেছিলেন অ্যালেক্স হেলস, ২০২১ আসরে লঙ্কানদের বিপক্ষেই শারজাহতে অপরাজিত ১০১ করেছিলেন জস বাটলার।

তাদের দুজনেরই সেঞ্চুরি ছিল ইনিংস শুরু করতে নেমে। ব্রুক তাই এখানেও একটু আলাদা।

গেইলের পর

সেঞ্চুরি ছুঁতে ৫০ বল লেগেছে ব্রুকের, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে যা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।

৪৭ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড ক্রিস গেইলের। ২০১৬ আসরে ইংলিশদেরই ভুগিয়ে ইনিংসটি খেলেছিলেন ‘ইউনিভার্স বস।’

প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি ৫০ বলে।

তিন সংস্করণ রাঙানো তিন

তিন সংস্করণেরই শতরানের স্বাদ পাওয়া তৃতীয় ইংলিশ ব্যাটসম্যান হ্যারি ব্রুক। আগের দুজন জস বাটলার ও দাভিদ মালান।

তিনে সপ্তম

৬০ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে খেলেই শতকের ছোঁয়া পেলেন ব্রুক। এই সংস্করণে তিনে প্রথম খেলে সেঞ্চুরি করেছেন তার আগে আর ৬ জন।

তাদের মধ্যে স্পেনের আওয়াইস আহমেদ, সার্বিয়ার লেসলি ডানবার ও কানাডার ম্যাথু স্পুর্সের শতরান ছিল তাদের প্রথম ইনিংসেই। স্পেনের মোহাম্মাদ ইহসান, সৌদি আরবের ওয়াজি উল হাসান ও মাল্টার প্রিয়ান পুস্পারাঞ্জানের ইনিংসগুলো ছিল শীর্ষ তিনে তাদের প্রথম ইনিংস।

ইংল্যান্ডের টানা ৫

এই নিয়ে টানা ৫টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। ২০ ওভারের বিশ্বকাপে এমন ধারাবাহিকতা দেখানো প্রথম দল তারাই।

এর আগে পাকিস্তান (২০০৭, ২০০৯, ২০১০, ২০১২) ও শ্রীলঙ্কা (২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৪) টানা ৪ বিশ্বকাপে পা রেখেছে শীর্ষ চারে।

পাকিস্তানের সঙ্গী

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ আসরে এই নিয়ে মোট ৬ বার সেমি-ফাইনালের ঠিকানা পেল ইংল্যান্ড। এখানে তারা যৌথভাবে শীর্ষে।

যে দলকে হারিয়ে এবার শেষ চার নিশ্চিত করল তারা, সেই পাকিস্তানও ৬ বার খেলেছে সেমিতে।

ইংল্যান্ড ৪-০ পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিতই থাকল ইংল্যান্ড। দুই দলের ৪ বারের দেখায় প্রতিটিই জিতেছে ইংলিশরা।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ৬টি টি-টোয়েন্টি জিতল ইংল্যান্ড।

একটুখানি আফ্রিদি

হ্যারি ব্রুক ও ইংল্যান্ডের নানা অর্জনের দিনে কিছু প্রাপ্তি আছে শাহিন শাহ আফ্রিদিরও। একাদশে ফেরার ম্যাচে সেরা সময়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার। ৩০ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে ইনিংসের প্রথম বলেই নিয়েছেন উইকেট। প্রথম স্পেলেই তিন উইকেট নিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে।

এই পরিক্রমায় ছাড়িয়ে গেছেন তিনি কাগিসো রাবাদাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট এখন আফ্রিদির।

শুরুর ৬ ওভারের মধ্যে রাবাদার উইকেট ১৬টি। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ১৫টি, আর্শদিপ সিং ও ট্রেন্ট বোল্টের ১৪টি করে।

বিশ্বকাপের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আফ্রিদির পাওয়ার প্লে উইকেট এখন ৬০টি। এখানে তার ওপরে আছেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদি (৬৫) ও মালেয়েশিয়ার বাঁহাতি স্পিনার পাভানদিপ সিং (৬২)।

আফ্রিদির ওই ৬০ উইকেটের ২৬টিই এসেছে প্রথম ওভারে। এখানে তার ওপরে আছেন কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের জুনায়েদ সিদ্দিকি (২৮টি)।

আফ্রিদির এই ২৬ উইকেটের মধ্যে বিশ্বকাপে আছে ৮টি। এখানে তিনি স্পর্শ করেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের রেকর্ড।