রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের জেরে নিহত রায়হান আহমেদের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দাফন করার চার দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমেদ ও মেজবাহ উদ্দিন এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়।
সেখানে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক শামসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। মেডিকেল বোর্ডে থাকা অন্য দুজন হলেন ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক দেবেস পোদ্দার ও প্রভাষক আবদুল্লাহ আল হেলাল। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৩টায় রায়হানের লাশ পুনরায় দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে বোর্ডের প্রধান শামসুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রায়হানের শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচুর মারধর করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে।
তিনি আরো জানান, রায়হানের প্রথম দফার ময়নাতদন্তের প্রিলিমিনারি রিপোর্ট বৃহস্পতিবার সকালে পিবিআইকে দেয়া হয়েছে। কিছু রাসায়নিকের নমুনা চট্টগ্রামের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর ফল এলে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়া হবে।
এদিকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সেজন্য দেশের সব ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠিয়েছে পিবিআই। পিবিআইর প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পিবিআইর প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, এসআই আকবর পলাতক। কিন্তু মামলা তদন্তের জন্য তাকে দরকার। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।