রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাবেক এমডিরা এখন পলাতক যে কারণে
এক দশক আগে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন এম ফরিদ উদ্দিন। টানা ছয় বছর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৬ সালে অবসরে যান তিনি। দায়িত্বের পুরোটা সময়ই ফরিদ উদ্দিন চলেছেন দাপটের সঙ্গে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ, জনবল নিয়োগ-পদোন্নতি থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মকাণ্ডেই ছিল ফরিদ উদ্দিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। যদিও অবসরের দিন থেকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ দাপুটে এমডিকে। লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে গেছেন রূপালী ব্যাংককে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া ফরিদ উদ্দিন।
ফরিদ উদ্দিন যখন রূপালী ব্যাংকে দোর্দণ্ড প্রতাপে এমডির দায়িত্বে, তখন অগ্রণী ব্যাংকে চলছিল সৈয়দ আবদুল হামিদের কর্তৃত্ব। ২০১০ থেকে ২০১৬—এ ছয় বছর অগ্রণী ব্যাংকের প্রতিটি কর্মকাণ্ড ছিল আবদুল হামিদের নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অপসারিত হওয়ার পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এ শীর্ষ নির্বাহীকে।
এম ফরিদ উদ্দিন আর আবদুল হামিদই শুধু নন, গত এক দশকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যাওয়া বেশির ভাগ এমডিকেই এখন আর জনসম্মুখে দেখা যায় না। এ তালিকায় রয়েছেন সোনালী, জনতা, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) সাবেক শীর্ষ নির্বাহীরাও। দাপুটে এসব এমডির অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। দেশে যারা আছেন তারাও জীবন যাপন করছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানেও দেখা যায় না তাদের।
অথচ একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বা ডেপুটি গভর্নর হয়েছেন। অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টসহ (বিআইবিএম) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার কেউ কেউ নিয়োগ পেয়েছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও।
গত দুই দশকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় সব ব্যাংকারের খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, গত দশকের আগে দায়িত্ব পালনকারী অনেক এমডিই এখনো সরব আছেন কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে গবেষণা ও পাঠদান করছেন। গণমাধ্যমে লেখালেখি ও প্রতিক্রিয়া জানানোর মাধ্যমে আর্থিক খাতের উপদেষ্টার ভূমিকাও রাখছেন কেউ কেউ।
লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়া সাবেক এমডিদের মধ্যে রয়েছেন সোনালী ব্যাংকের মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, রূপালী ব্যাংকের এম ফরিদ উদ্দিন ও বেসিক ব্যাংকের কাজী ফখরুল ইসলাম। রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকে বড় অঘটনের কুশীলব হিসেবে অভিযুক্ত এ তিনজন এখন বিদেশে। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ বর্তমানে দেশে আছেন। আবার দেশে থাকলেও বর্তমানে নিভৃত জীবন যাপন করছেন সোনালী ব্যাংকের প্রদীপ কুমার দত্ত, জনতা ব্যাংকের এস এম আমিনুর রহমান, মো. আবদুস সালাম ও বিডিবিএলের জিল্লুর রহমান। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলছেন সাবেক এমডিদের কেউ কেউ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্তের খড়্গও ঝুলছে তাদের কারো কারো ওপর।