রাজস্ব আদায়: সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে থেকে অর্থবছর শেষ করল এনবিআর
রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরু করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার চেয়ে সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে থেকে অর্থবছর শেষ কর করল কর আদায়ের সংস্থাটি।
সামষ্টিক অর্থনীতির চাপের মুখে সরকারের হাতে যখন রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই, তখন এ চিত্র সামনে এল।
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থিমিত হয়ে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা আর আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে পণ্য সরবরাহে বিশৃঙ্খলায় রাজস্ব আদায় বড় ধাক্কা খায়।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় এনবিআর যে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি, তার প্রমাণ মিললো মঙ্গলবার প্রকাশিত রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ তথ্যে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাস্টমস, ভ্যাট এবং আয়কর—এই প্রধান তিন খাত থেকে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর, যেখানে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ছিল।
এই হিসেবে অর্থবছর শেসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়াল প্রায় ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।
লক্ষ্য ছুঁতে না পারলেও রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের এ অংক এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে লক্ষ্য ধরা হয় ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন সংগঠন রাজস্ব আদায়ের এ লক্ষ্যকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে আসছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে গেলে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে, যা অতীতে কখনো হয়নি। খুব ভালো হলে প্রবৃদ্ধির হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের আশেপাশে থাকে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রবৃদ্ধি হতকোন খাতে কত আদ
বিদায়ী অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি এসেছে আয়কর খাত থেকে। কোম্পানি কর, ভ্রমণ কর এবং উৎসে কর মিলিয়ে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
এর আগের অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফলে আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
অন্যদিকে আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।ায়?ে হবে ৪৫ শতাংশের বেশি।