শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
শিক্ষা

রাজশাহীতে মবের হাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দাবিতে নেপালের :

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 04 মে 2026, 04:07 দুপুর • 176 বার পঠিত
রাজশাহীতে মবের হাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দাবিতে নেপালের :

রাজশাহীতে মবের হাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দাবিতে নেপালের ভিডিও প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, দাবিকৃত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, বরং এটি গত বছর নেপালের আন্দোলনের দৃশ্য।

ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, রাজশাহীর এক কলেজ শিক্ষার্থী মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। 

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। তাকে ঘিরে থাকা লোকজন লাঠি ও কাঠের টুকরা দিয়ে তাকে আঘাত করছে। 

তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, দাবিকৃত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, বরং গত বছর নেপালের আন্দোলনের দৃশ্য। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে, প্রথমে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করা হয়। সার্চে রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র জাহিদ হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।  

ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, জাহিদের মৃত্যু হয়েছে বিষক্রিয়ায়।

‘রাজশাহীতে মদপানে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু’ শিরোনামে ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরে মদপান করে অসুস্থ হয়ে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

২০ বছর বয়সী নিহত জাহিদ হাসান অলি রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জাহিদ নিয়মিত মদপান করতেন না। শখের বসে দুই দিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করেন। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

৩০ এপ্রিল, ‘শখের বসে বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু’ শিরোনামে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে একই ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, জাহিদকে হাসপাতালে ভর্তির সময় চিকিৎসককে মদপানের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার মৃত্যু সনদে অ্যালকোহলে বিষক্রিয়া লেখা আছে।

সব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজশাহীর কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার দাবিতে নেপালের আন্দোলনের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ ভিডিওগুলোকে মিথ্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। 

সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে এ সব অপতথ্য ছড়ানো হয়।

দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সে সব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে, সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।