রাজধানীতে শাক-সবজি, মাছ ও মাংসের বাজার চড়া
রাজধানীর বাজারে শাক-সবজি, চাল, মাছ ও মাংসের বাড়তি দাম এখন সাধারণ মানুষের সহনীয়তার বাইরে চলে গিয়ে সয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। গত দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে এসব নিত্যপণ্য চড়া দামেই বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-২, ১৩ ও ১৪ নম্বর এলাকার বাজার সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি মোহাম্মদপুর ও ফার্মগেট এলাকার বাজারের বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
এসব বাজারে লাউ ধরনভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, প্রতিকেজি পটল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা, আকার ও ধরনভেদে বেগুন ১০০, ১২০ ও ১৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ছোট আকারের ফুলকপি (৩০০-৪০০ গ্রাম) ১০০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে লাল শাক আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, লাউ শাক ৩০ টাকা ও পালং শাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার প্রতিকেজি ২০০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা ও সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা।
মাঝারি আকারের প্রতিকেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এসব বাজারে প্রতিকেজি রুই ও কাতল (আকারভেদে) ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বাইম ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৯০০ টাকা, বড় চিংড়ি ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল ৮০০ টাকা দামে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা ও আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে চিকন চাল প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, আটাশ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, গুটি চাল ৫৫ টাকা ও পুরাতন মোটা চাল ৫০ টাকা দরে হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দাম বাড়ার ঘোষণায় সয়াবিন তেল বাজার থেকে কমে গেছে। রাজধানীর অধিকাংশ দোকানে এটি পাওয়া যাচ্ছে না। না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে একাধিক দোকানদার জানান, কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আগের দামেই ২০০ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে সুপারশপগুলোতে সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে। পাম অয়েল প্রতিলিটার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মিরপুর-১৩ নম্বর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আদিল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে, তা কি আর কমে? দু-একটা পণ্যের দাম হয়তো কিছুটা কমেছে, কিন্তু ৯৯ শতাংশ পণ্যই আগের চড়া দামে আটকে আছে।
একই বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারের দাম নির্ভর করে পাইকারি আড়তের ওপর। তাছাড়া পরিবহন খরচসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। দিনশেষে কিছু পণ্য অবিক্রিত থেকে নষ্ট হওয়ার হিসাবও আমাদের রাখতে হয়।