রাজধানীতে বাস কম, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে আজ গণপরিবহনের অভাব দেখা দিয়েছে। বাস, টেম্পুর তো দেখা মিলছে না, রাস্থায় তেমন একটা নামেনি ভাড়ায় চলা উবার, পাঠাও এর মতো মোটরসাইকেল সার্ভিসের।
এমনিতে বাসের সংখ্যা খুব কম, তার ওপর তেলের দাম বাড়ার কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে তা দিচ্ছেন।
আজ শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন সড়কে ও বাসস্ট্যান্ডে একই চিত্র দেখা গেছে। সড়কে গণপরিবহন নেই বলতে গেলে। যা আছ তা হাতে গুণে বলা যাচ্ছে। আর বাসস্ট্যান্ডে অসংখ্য যাত্রী অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।
গতকাল শুক্রবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, আগে থেকে কিনে রাখা তেল দিয়ে অল্প কিছু বাস চলছে। যাত্রীরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর একটা বাস দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কেউ উঠতে পারছেন, কেউ পারছেন না। যারা উঠতে পারছেন না তারা অসহায়ের মতো আবার অপেক্ষা করছেন দাঁড়িয়ে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে লিটার প্রতি ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা করা হয়েছে।
রাতে তেলের দাম বাড়ানোর খবর প্রচার হওয়ার পর ঢাকার সব এলাকার তেলের পাম্পগুলোতে নানা গাড়ির উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কোনো কোনো স্টেশন চাপ সামলোতে না পেরে বিক্রি বন্ধ রাখে। রাতে কোনো কোনো সড়কে তেল নিতে আসা গাড়ি-মোটরবাইক-যানের কারণে তীব্র জট লেগে যায়।
ঢাকার মতো রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন স্থানে আগের দামে তেল পেতে নিজস্ব বাহন নিয়ে মানুষ পাম্পে চলে আসেন। রাত ১১টার পর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। এসময় বিভিন্ন পাম্পে একই অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক চালক অভিযোগ করেন, তেলের দাম বাড়ার খবর জানার পর থেকে পাম্পগুলো ঠিকমত তেল দিচ্ছে না।
আবার কোনো কোনো স্থানে সময়ের আগে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোথাও বা তেল দেওয়ার পরিমান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। রাত ১২টার পর আগের জমা তেলই বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে এসব করা হয়।
সাভারে পাম্পে ভাঙচুর
তেলের দাম বাড়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সাভারের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে পরিবহনের স্টাফ ও বাইক চালকদের সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষের ঝামেলার খবর মিলেছে। আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকার একটি পাম্প কর্তৃপক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে।
গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, তেলের দাম বাড়ার খবরে তেল নিতে আসেন অনেকেই। কিন্তু পাম্পের লোকজন তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। তখন গ্রাহকদের সঙ্গে পাম্পের লোকজনদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এই পাম্প ছাড়াও তেলের দাম বাড়ার পর সাভারের বিভিন্ন পাম্পে তেল না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক ও বাসচালকরা।