শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

পয়লা বৈশাখের আয়োজন বাধাগ্রস্ত করার অধিকার কারও নেই

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 12 এপ্রিল 2025, 09:09 রাত • 254 বার পঠিত
পয়লা বৈশাখের আয়োজন বাধাগ্রস্ত করার অধিকার কারও নেই

পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, পয়লা বৈশাখ শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসবই নয়, এটি জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। এই আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত বা কলঙ্কিত করার কোনো অধিকার কারও নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পয়লা বৈশাখ পালন কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় এবং এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধিতাও করে না। মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ জনপদের মানুষ এই উৎসব পালন করে আসছে। একে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।

বিবৃতিদাতারা বলেন, কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পয়লা বৈশাখ এবং বর্ষবরণের নানা আয়োজন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। শোভাযাত্রায় পোশাক, প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি নিয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা যে বক্তব্য দিচ্ছে, তা ৫০-৬০ এর দশকে দেখা উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির আচরণের পুনরাবৃত্তি।

তাঁরা বলেন, ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা প্রতিহত করে এ দেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী সরকারকে অপসারণ করে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এমন সময় পয়লা বৈশাখ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি কিংবা অযাচিত বিধিনিষেধ আরোপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামের মধ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আদিবাসী'দের উৎসবে সম্পৃক্ত করা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ। অথচ তাঁদের 'আদিবাসী' পরিচয় অস্বীকার করা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার পরিচায়ক।

বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম ইন বাংলাদেশের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, সেন্ট্রাল উইমেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক খাইরুল চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেইন, লেখক পাভেল পার্থ, কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মণীন্দ্র কুমার নাথ, আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ ও আদিবাসী অধিকারকর্মী হানা শামস আহমেদ।