শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

পথ হারিয়ে ফেললে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরেই খুঁজে পাওয়া যাবে: ইউনূস

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 আগস্ট 2026, 10:00 দুপুর • 69 বার পঠিত
পথ হারিয়ে ফেললে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরেই খুঁজে পাওয়া যাবে: ইউনূস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে নতুন যাত্রাপথের শুরু এবং পথ হারিয়ে ফেললে এখানেই পথ খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিগত অন্তর্বর্তীলীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস।

তিনি বলেন, “এখান (জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর) থেকে নতুন যাত্রাপথ রচনা হবে। আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব।

“যদি আমাদের চিন্তায় কোনো গাফিলতি আসে আমরা এখানে তার ঠিকানা বের করব। আমরা নতুন সূত্রে আবার যাত্রা শুরু করব।”

চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উদ্বোধন হয়েছে তার বাসভবনের গড়ে তোলা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’।

বুধবার সকালে শেরেবাংলা নগরে এই জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য রাখছিলেন।

অধ্যাপক ইউনুস বলেন, “আজকের এই দিন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর নানাদেশে নানা রকমের জাদুঘর আছে যারা অতীতের অনেক জিনিস সংগ্রহ করে, বিশেষ বিশেষ জিনিস জাতির কাছে তুলে ধরার জন্য।

“কিন্তু এই জাদুঘরটি ভিন্ন। এখানে অতীতের কিছু সংগ্রহ নাই। এখানে একেবারে টাটকা, নতুন যা ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এরকম জাদুঘর আছে কিনা জানি না। কিন্তু আমাদের সুযোগ হল, ঘটনা ঘটছে সেই ঘটনার প্রতিটি নমুনা, প্রতিটি ইতিহাস আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছি এবং এই স্মৃতি জাদুঘরে নিয়ে এসেছি। এটা আমাদের ইতিহাসের একটা নতুন পর্যায় সৃষ্টি করেছে…অতীত এবং ভবিষ্যৎ এই দুইটার মাঝামাঝিতে এই জাদুঘর…এই জাদুঘর তাৎক্ষণিকভাবে অতীতকে ধারণ করেছে কিন্তু ভবিষ্যৎ রচনা করেছে। আমরা কারা, কী চাই, আমাদের মনে কী ছিল?”

শহীদ আনাসের চিঠি তুলে ধরেন তিনি বলেন, “আমরা গেলাম, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চলে গেলাম। এই হচ্ছে জাদুঘরের বৈশিষ্ট।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। সাবেক অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জাদুঘরটিতে সব শ্রেণির মানুষ আসবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটা এমন এক জাদুঘর যে, বাংলাদেশের যত তরুণ-তরুণী, যত নাগরিক আছেন সবার যেন একবার দেখার সুযোগ হয়। প্রতিদিন দলে দলে আসবে, দেখবে, নিজের মনে কথা লিখে রাখবে, নিজের মনের কথা লিখে জমা দিয়ে যাবে এখানে। তারা কী আবেগে এসছে, কী ভবিষ্যৎ চিন্তা করে, সেটা লিপিবদ্ধ করে যাবে।

“এই চত্বর গম গম করবে। যেই কবরগুলো সাজানো আছে। যদিও সেগুলো প্রকৃত কবর নয়। প্রত্যেক কবরের সঙ্গে একটা নাম থাকবে সেই নামটা খুঁজে ইতিহাস বের করবে, ইতিহাস থাকবে এখানে যে কীভাবে কোথায় মারা গিয়েছিল? তার ইতিহাসটা কি? সেটা থাকবে।”

চব্বিশের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর শান্তিতে নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে।

জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে আসা জনগণের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “তারা আমাদেরই বন্ধু-বান্ধব, আমাদেরই ছেলে-মেয়ে, আমাদেরই প্রতিবেশী। কোনো বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক কর্মী নন তারা।

“তারা সাধারণ ছেলে-মেয়ে যে রাজপথে নেমে আসে। তারা চেয়েছিল যে, এই বাংলাদেশ আর চলবে না, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ব…এটা ছিল তাদের আশঅধ্যাপক ইউনুস আশা প্রকাশ করে বলেন, “সারা বাংলাদেশের সকল জায়গা থেকে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা এখানে আসবে। একটা দিন এখানে কাটাবে এবং তাদের মনের কথা লিখে যাবে যে, আমি কী চাই? আমার কী চাহিদা, আমি কী কাজে নিজেকে নিয়োজিত করছি, সেটা জানিয়ে যাবে।

“এটা সারাদেশের সকল সংস্কৃতির একটা একটা পিতৃভূমি হবে। গান-বাজনা, বাক্য, প্রতিকৃতি, আর্ট…সব কিছু, এখানে ছেলে-মেয়েরা আসবে, তারা তাদের মনের কথা লিখে যাবে। এটা হল সেই কেন্দ্রবিন্দু, এটা আমাদের ইতিহাসের আঁতুড়ঘরের দৃশ্য…এখান থেকে আমাদের যেই নাড়ির সূত্র, এই সূত্র যেন আর ছিন্ন না হয়।”

জাদুঘর নির্মাণ পরিকল্পনাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজকে আমরা কয়েক মিনিটে ঘুরে দেখেছি। কিন্তু এর প্রতিটি জিনিস সংগ্রহ করতে বহু সময় লেগেছে, বহু কষ্ট হয়েছে। কোন জিনিসটা পাওয়া যাচ্ছিল না, সেটা সংগ্রহ করতে হবে…এটা নিয়ে বহু ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছে, যাতে এটা সংগ্রহ করে, এটা আমরা এখানে রাখতে পারি, আমরা দেখাতে পারি।

“কাজেই ওই নাড়ির সূত্র এখানে স্থাপন করা হল, যাতে বাংলাদেশ নতুন ভঙ্গিতে, নতুন দৃষ্টিতে সামনে এগিয়ে যাবে এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে, সাহস নিয়ে আমরা আমাদের বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যারা এই জাদুঘরের পেছনে পরিশ্রম করেছেন, এটাকে তৈরি করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করার পরে সেটি ঘুরে দেখেন। তারপর যোগ দেন আলোচনা সভায়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলা বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই বক্তব্য রাখেন গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শাহরিয়ার খান আনসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং জুলাই যোদ্ধা নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদের প্রধান হুইপ, সংসদ সদস্যরা, তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কুটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, সরকারি ও বেসরকারি ঊধর্বতন কর্মকর্তারা।া।”