পৃথিবী ব্যাপী প্লাস্টিক দূষণে শীর্ষে কোকা-কোলা পেপসি নেসলে
দীর্ঘ সময় পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, এরই মধ্যে পৃথিবীর জন্য মহা এক সংকটে রূপ নিয়েছে প্লাস্টিক সমস্যা। কিন্তু এসব আন্দোলন এবং সতর্কবার্তা শোনার মতো কোথাও যেন কেউ নেই। বারবার বলার পরও প্লাস্টিক পণ্য বাজারে আনা বন্ধ হচ্ছে না।
বিশ্বের শীর্ষ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনকারীর তালিকার দিকে তাকালেই চিত্রটা আরো বেশি স্পষ্ট হবে। টানা তৃতীয় বছর প্লাস্টিক দূষণকারীর তালিকায় সবার ওপরে অবস্থান করছে কোকা-কোলা, পেপসিকো ও নেসলে। এমনকি প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি ‘শূন্য’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’-এর করা বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনের তালিকায় অনুমেয়ভাবে সবার ওপরে স্থান পেয়েছে কোকা-কোলা। জরিপ করা ৫৫ দেশের ৫১টিতেই জনপ্রিয় এই কোমল পানীয়র বোতলগুলো সমুদ্রসৈকত, নদীর তীর এবং অন্যান্য স্থানে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। আগের বছর একই ধরনের জরিপ করা হয়েছিল ৫১টি দেশে।

কোকা-কোলা ব্র্যান্ডের ১৩ হাজার ৮৩৪ পিস প্লাস্টিকের দেখা মিলেছে, সেখানে পেপসিকোর ব্র্যান্ডিং করা পণ্য ছিল ৫ হাজার ১৫৫টি এবং নেসলের ছিল ৮ হাজার ৬৩৩। অর্থাৎ পেপসি ও নেসলে মিলেও কোকা-কোলার সমপরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন করতে পারেনি।
বার্ষিক এই অডিটে বিশ্বব্যাপী ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী একযোগে কাজ করেছেন, যারা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক পণ্য চিহ্নিত করেছেন। এ বছর তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৪ পিস প্লাস্টিক বর্জ্য।
এদিকে গত মার্চে টিয়ারফান্ড নামে এক এনজিও সংস্থার জরিপে দেখা গেছে ছয়টি উন্নয়নশীল দেশে কোকা-কোলা, পেপসিকো, নেসলে ও ইউনিলিভার অর্ধমিলিয়ন টন প্লাস্টিকদূষণের জন্য দায়ী।