শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

প্রকল্পের ব্যয় শুনলে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়: নৌ উপদেষ্টা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 অক্টোবর 2024, 07:23 বিকাল • 166 বার পঠিত
প্রকল্পের ব্যয় শুনলে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়: নৌ উপদেষ্টা

বিগত সরকারের সময়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বড় বড় প্রকল্প, অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপকতায় বিস্মিত এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন।

মন্ত্রণালয়কে ‘চুরির প্রশান্ত মহাসাগর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

রোববার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) কার্যালয়ে বিগত সরকারের আমলে জাহাজ কেনার চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে প্রথমে স্বরাষ্ট্রের দায়িত্ব পেলেও পরে নৌ পরিবহন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাখায়াত হোসেনকে।

নৌ মন্ত্রণালয়ের আগের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, “এ মন্ত্রণালয়ে অনেক প্রজেক্ট আছে, যেগুলো নিয়ে আমি বহু প্রশ্ন উঠিয়েছি- এ প্রজেক্ট কেন হচ্ছে? এখন প্রজেক্ট প্রায় শেষের পথে। এগুলো যদি এখন বন্ধ করে দিই তাহলেতো টোটাল ওয়েসটেজ।

“বড় বড় প্রজেক্ট আছে। সরকার আলোচনা করে যদি সেগুলো বন্ধ করে দেয় টাকাটা ওয়েসটেজ হয়ে যাবে। এগুলোতো আপনার আমার টাকা। আপনার গলায় কাঁটা লাগছে, সেটাতো গিলতে হবে, কিছু করার নাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আগেও বলেছি এটা চুরির মহাসমুদ্র না, প্রশান্ত মহাসাগর। ডুব দিলে আপনি টেরও পাবেন না কোথা থেকে কী… এখন যেটা হয়ে গেছে সেটার জন্য দুদক আছে। আমাদের কাছে যে ডকুমেন্টগুলো আছে আমরা দুদককে পাঠিয়ে দিচ্ছি। দুদকের এনকোয়ারি হবে।

প্রকল্প ব্যয় নিয়ে সন্দেহের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “কোনো প্রজেক্ট দিলে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়, আসলে এটা কত টাকার প্রজেক্ট! এখন আমরা যেটা করতে পারি ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্ট রাখতে পারি।”

এসময় তিনি হাসির ছলে বলেন, “কন্সালটেন্টকেতো বিশ্বাস করতে হবে- কন্সালটেন্ট ঠিকই বলতেছে। আপনারা নিজেরা জানেন…।”

উপদেষ্টার কাছে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল- বিগত সরকার বিএসসির জন্য ছয়টা জাহাজ কিনতে চীনের সাথে চুক্তি করেছিল। কিন্তু পরে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে জাহাজ কমে চারটায় নামিয়ে আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে দুইটি জাহাজের দাম নয়-ছয় হওয়ার করার আছে। এ বিষয়টি আপনারা খতিয়ে দেখবেন কি না?

জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সেখানে অনেকগুলো প্রোগ্রাম আছে জি-টু-জি। একটা টিম আমার অলরেডি কাজ করছে প্রাইস নিগোসিয়েশন নিয়ে। তারা যে প্রাইস বলেছে সেটাতে আমরা রাজি হচ্ছি না। আমরা যতটুকু সম্ভব প্রাইস কমানোর চেষ্টা করতেছি।

“এখন কে টাকা নিয়ে গেল, কে গেল না… সেটা বের করা মুশকিল। কাউকে টাকা দিয়ে থাকলে সেটা কিভাবে বের করব? কয় বছর হয়ে গেছে? এখন বলবে ডলার (দাম) ফ্ল্যাকচুয়েট করছে, তখন ডলার ছিল ৯০/৯৫ টাকা। এটাতো এনকোয়ারি হবে; কিন্তু প্রজেক্ট বন্ধ থাকলে জাহাজতো আমি আর পাব না।”