পরিবেশ রক্ষায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পরিবেশকর্মী হত্যা
পরিবেশ রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ নীতিমালাহীন শিল্প কারখানা ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় ২০১৯ সালে কমপক্ষে ২১২ জন পরিবেশ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যার ঘটনার দুই-তৃতীয়াংশ ঘটে লাতিন আমেরিকায়। বুধবার লন্ডন ও ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক এনজিও ‘গ্লোবাল উইটনেস’ এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ আন্দোলনের জন্য প্রাণ হারানো কর্মীদের অর্ধেকের বেশি কলম্বিয়া ও ফিলিপাইনের। পরিবেশবাদীদের হত্যার দিক থেকে এরপরেই রয়েছে ব্রাজিল, মেক্সিকো, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা।
বেসরকারি এ সংস্থা বার্ষিক প্রতিবেদনে আরো জানায়, প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় এক্ষেত্রে পরিবেশ কর্মীদের হত্যার সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি। কারণ কিছু হত্যার ঘটনা জানা যায়নি। এছাড়া অনেক মৃত্যু ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষার জন্য যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ আদিবাসী এবং লাতিন আমেরিকার দুই-তৃতীয়াংশ। এর ১০ জনের মধ্যে একজন মহিলা ছিলেন।
গত কয়েক দশক ধরে, মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার বনাঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পিতৃভূমিগুলো ক্ষতি ও ধ্বংস করা হচ্ছে। কখনো কখনো দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় বা জাতীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার খবরও পাওয়া যায়।
গ্লোবাল উইটনেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরের বিরোধিতা করার কারণে গত বছর বিশ্বজুড়ে ১৪১ জন হত্যার শিকার হয়েছে। আর খনিজ কার্যক্রমের বিরোধিতা করার জন্য এক-তৃতীয়াংশকে হত্যা করা হয়েছে ।
কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিরোধিতা করার কারণে ৩৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই এশিয়া অঞ্চলের বিশেষ করে ফিলিপাইনের।
ফিলিপাইনে, পুলিশ এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানের ফলে মার্চ মাসে নেগ্রোস দ্বীপে ১৪ কৃষকের হত্যার ঘটনা ঘটে।
গ্লোবাল উইটনেস ক্যাম্পাইগনের রাচেল কক্স বলেছেন, কৃষিজমি, তেল-গ্যাসের অনুসন্ধানে খননকাজ এবং পরিবেশ রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে গত বছর সবচেয়ে বড় আক্রমণ ছিল।