প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে ১২০ টাকাতেই কাজে ফিরলেন চা শ্রমিকরা
চা শ্রমিকদের আন্দোলন দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে নূন্যতম ৩০০ টাকা করার। তবে শ্রমিকরা আগের ১২০ টাকা দৈনিক মজুরিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আজ সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা যার যার বাগানে কাজে ফিরেছেন।
গতকাল রোববার গভীর রাতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। এই বৈঠকে শ্রমিকরা আগের মজুরিতে বাগানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
মীর নাহিদ আহসান অনেক রাখঢাক রেখেই এই রাতের বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে তার প্রতি আস্থা রেখে চা শ্রমিকরা আগের মজুরিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা্ মেনে নেব।’’
এর আগে শনিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের অফিসে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তখন শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।
কিন্তু শ্রমিকরা তা মানেননি। গতকাল রোববার সকাল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা খালি গায়ে ‘মজুরি ৩০০ টাকা চাই’ লিখে রাজপথে অবস্থান নেন। সকাল থেকে তারা সিলেট নগরের উপকন্ঠ লাক্কাতুড়া চা বাগান সংলগ্ন এলাকা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
এটি বিমানবন্দরের সড়ক। অসংখ্য গাড়ি তখন আটকে যায়। তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এর পর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এক দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
গত রাতের সভার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো-
১. প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তার সম্মানে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ২২ আগস্ট থেকে কাজে যোগদান করবেন।
২. আপাতত চলমান মজুরি অর্থাৎ ১২০ টাকা হারেই শ্রমিকগণ কাজে যোগদান করবেন।
৩. মজুরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে বলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবি জানান।
এছাড়া, আসন্ন দুর্গাপূজার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হওয়ার জন্য চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আবেদন করবেন যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপস্থাপিত হবে।
চা-শ্রমিকদের অন্যান্য দাবিসমূহ লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করবেন। জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সময় বিবেচনা জানাসহ তার কার্যালয়ে পাঠাবেন। বাগানমালিকরা বাগানের প্রচলিত প্রথা/দর মোতাবেক ধর্মঘটকালীন মজুরি শ্রমিকদের পরিশোধ করবেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর উপ-পরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।