প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে এখনো উঠতে পারেনি আমতলীর ৩০০ পরিবার!
সরকার হতদরিদ্রদের মাজে কিছু দিন আগে ৩৫০টি ঘর দান করেন। বরগুনার আমতলীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রানালয়ে (ওএসডি) শাস্তিমূলক বদলী এবং তাকে শোকজ করা হয়েছে। মূলত তার অনিয়ম আর দুর্নীতির কারনেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে দ্বিতীয় ধাপে উপজেলায় হতদরিদ্র ভূমিহীদের জন্য বরাদ্দ ৩৫০টি ঘরের নির্মাণ কাজ যথা সময়ে শেষ করতে না পারায় ওই ঘরগুলোতে উঠতে পারছে না হতদরিদ্র ভূমিহীন পরিবারগুলো। তারা নির্মাণাধীন ঘরের পাশে ছাপড়া দিয়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প- ২ এর অধীনে দ্বিতীয় ধাপে উপজেলায় হতদরিদ্র ভূমিহীদের জন্য বরাদ্দ ৩৫০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নে ১১০টি, কুকুয়া ইউনিয়নে ৩০টি, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে ২৫টি, হলদিয়া ইউনিয়নে ২৩টি, চাওড়া ইউনিয়নে ৭২টি, আমতলী সদর ইউনিয়নে ৮১টি ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় আমতলী সদর ইউনিয়নে ৮১টি ঘরের মধ্যে ২৫টি এবং গুলিশাখালী ইউনিয়নে ১১০টি ঘরের মধ্যে ২৫টি মোট ৫০টির মত ঘরে হতদরিদ্র ভূমিহীন পরিবারগুলো উঠতে পারলেও বাকি ৫টি ইউনিয়নের ৩০০টি ঘরে হতদরিদ্র ভূমিহীন পরিবারগুলো উঠতে পারেনি। তারা নির্মাণাধীন ঘরের পাশে ছাপড়া দিয়ে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরেজমিনে আজ দুপুরে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী ও নাইয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, এ ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ১১০টি ঘরের অধিকাংশের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ঘর পাওয়া অনেকেই নির্মাণাধীন ঘরের পাশে ছাপড়া দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বসবাস করে আসছে। বেশ কিছু ঘরের কাজ কেবল শুরু হইছে। এখনো অনেক ঘরের ছাউনীসহ দরজা জানালা লাগানো বাকি রয়েছে। আবার অল্প কয়েকটি ঘরের ছাউনি দেয়া হলেও পলেস্তারা ও রঙয়ের কাজ বাকি আছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে অনেক ঘরের কাজ বন্ধও রয়েছে।
ঘর পাওয়া ভূক্তভোগীরা গুলিশাখালীর নাইয়াপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র ভূমিহীন আনোয়ার ঘরামী, ফিরোজা বেগম ও জানায়, কবে যে এই ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা তাদের জানা নেই। এখন বর্ষার কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় উপকারভোগী পরিবারগুলো নির্মাণাধীন ঘরের পাশে টিনের ছাপড়া দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তবে তারা শিগ্রই কাজ শেষ করে দিতে বলে যাতে তারা ঘরে উঠতে পারে।