শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থ অন্তর্ভুক্তির আহ্বান: ভিএনআর

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 22 মার্চ 2025, 04:41 দুপুর • 305 বার পঠিত
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থ অন্তর্ভুক্তির আহ্বান: ভিএনআর

সরকার কাঠামোগত সংস্কারের নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারেও এসডিজি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত। জাতীয় পর্যালোচনা (ভিএনআর) প্রণয়নের উদ্যোগে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, বিশেষত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

গত বৃহস্পতিবার(২০ মার্চ) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত "জাতীয় এসডিজি রিপোর্ট (ভিএনআর) ২০২৫ : পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার অন্তর্ভুক্তি" শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান, যেখানে বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়নের অবস্থা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়। এসডিজির মূল দর্শন—"কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না"- এই নীতির আলোকে কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তিনি ব্যাখ্যা করেন। যদিও বাংলাদেশ পুরোপুরি সফল নয়, তবে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সমাজে কিছু মানুষ নৈতিক খবরদারি করছে, তাদের সংখ্যা কম হলেও কণ্ঠস্বর উচ্চ। উদারনৈতিক, বহুত্ববাদী সমাজের পক্ষে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরও সব ধরনের বৈষম্যের বিষয়ে যথাযথ আলোচনা হয় না। নারী-পুরুষ বৈষম্যের কথা বলা হলেও লিঙ্গবৈচিত্র্যের বিষয় উপেক্ষিত থাকে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতির বিষয়ও গুরুত্ব পায় না। নারীদের আইনি সুরক্ষা ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও উচ্চারণের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘরে বসে থেকে সমাজ পরিবর্তনের আশা করা বোকামি। প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের জন্য দাঁড়াতে হবে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান বলেন, বাংলাদেশে প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন থেকে অধিকারভিত্তিক উন্নয়নের দিকে যেতে হবে। পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজে বের করে সেসব অধিকার আদায়ের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।

এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ জানান, আলোচনায় উঠে আসা চ্যালেঞ্জ ও ঘাটতিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙলি ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলারও বক্তব্য দেন।