পি কে হালদারের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি
প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারকে আজ মঙ্গলবার কলকাতার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদালতে তোলা হয়। আজ পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতে ছিলেন তিনি। পি কে হালদার ও তার ৫ সহযোগীকে ১৪ দিনের কারা
হেফাজতের নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১৪ মে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের পশ্চিম বঙ্গে গ্রেপ্তার করে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
তারা আজ আদালতে জানায়, পি কে হালদার ও তার সহেযোগীদের পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে তারা। এর সঙ্গে জানায়, উল্লেখিতদের ৩০০ কোটি টাকার সম্পদও পেয়েছে তারা।
পি কে হালদারের নামে ৪৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬০ কোটি টাকার খোঁজও পেয়েছে ইডি। ইডি জানায়, জেরায় তারা জানতে পেরেছে যে মালয়েশিয়ায় পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের ৪৪টি সম্পত্তি আছে। পি কে হালদারেরই আছে সাতটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে ২০১৯ সালে পালিয়ে যান। ধারণা করা হতো, তিনি কানাডায় আছেন। কিন্তু গত ১৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়ে ইডি পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, পি কে হালদার ভারতে নাম বদলে শিব শঙ্কর হালদার নাম নিয়ে বসবাস করছিলেন। সেখানে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পি কে হালদারের প্রাসাদসম বাড়িসহ অনেক সম্পদের সন্ধান পেয়েছে ইডি। এই সংক্রান্ত নথি তাদের হাতে এসেছে বলে জানায় তারা।
শিব শঙ্কর পরিচয় দিয়ে পি কে হালদার ভারতের বেশ কিছু সরকারি পরিচয়পত্র, যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশন কার্ড, ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র, আয়কর দপ্তরের পরিচয়পত্র পিএএন (প্যান), নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র, আধার কার্ড ইত্যাদি পরিচয়পত্র জোগাড় করেছিলেন। পিকে হালদার ও তাঁর অন্য সহযোগীরা একই কাজ করেছেন বলেও জানিয়েছে ইডি।
জানা গেছে, এইসব পরিচয়পত্রের সাহায্যে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু কোম্পানি পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীরা খুলেছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় জমিজমাও কিনেছিলেন। কলকাতার বিভিন্ন অভিজাত এলাকাতেও তাঁদের বেশ কিছু বাড়ি রয়েছে।