পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় হোটেল ব্যবসায় ক্ষতির শঙ্কা
২৫ জুন পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এটা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে সেইসঙ্গে দেশের অন্যতম নৌপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় যানবাহনের চাপ অনেকটা কমে আসবে।
তবে যানবাহনের চাপ কমে এলে এই নৌরুটের উভয় পারের খাবার হোটেলের বিকিনিকি কমে আসবে এ আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু (তৎকালীন যমুনা বহুমুখী সেতু) চালু হলে আরিচায় কমতে থাকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ, অন্যদিকে নদীতে নাব্যতা সংকটে ভাটা পড়ে আরিচা বন্দর। ২০০১ সালে নদীপথ ছোট করার জন্য ফেরিঘাট স্থানান্তর হয় পাটুরিয়ায় এবং এর পরেই যৌবনময় আরিচা ঘাট প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নামের একটি ফেরি দিয়ে আরিচা ঘাটে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। ওই সময় একটি গাড়ি পার হয়েছিল এবং তার ভাড়া গুনতে হয়েছে ৭৫ পয়সা। দীর্ঘদিন চলে এই ফেরি ঘাটটি, আরিচা ফেরিঘাটটি ১৯৮৩ সালে নদী বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নাব্যতা সংকট, নদীপথ বৃহৎ এবং ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়াতে ২০০১ সালে আরিচা ঘাটটি স্থানান্তরিত হয় পাটুরিয়ায়।
লুৎফর নামে অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, পাটুরিয়ায় প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে আর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত দুই হাজার পরিবার। ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ কমে গেলে বেচাবিক্রি কমে যাবে তখন পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবহনের চালক বলেন, এই ঘাটে প্রায় ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশ পথ, সব গাড়ি কিন্তু পদ্মা সেতু দিয়ে যাওয়ার কথা না। তবে শুধুমাত্র লোকাল দালালদের কারণে বাধ্য হয়ে সেতু পার হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন এটা আমাদের জন্য বড় একটি পাওয়া, কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে অর্থনৈতিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।