পাওনা টাকা চেয়ে দেবরের হাতে খুন
প্রবাসী স্বামী জাহিদ হোসেনকে না জানিয়ে দেবর ওয়াসিমকে আড়াই লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন লিমা আক্তার। সেই ধার দেওয়াই যে তার জীবন কেড়ে নেবে তা কে জানতো! লিমা হত্যাকাণ্ডের আটদিনের মাথায় অভিযুক্ত ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে বাহিনীর বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তথ্য দিলেন।
মুক্তা ধর জানান, সৌদি আরব প্রবাসী জাহিদ হোসেনের স্ত্রী লিমা আক্তার গত ১২ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার বাংড়া পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন। তখন ওই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও ছায়া তদন্ত শুরু করে। ১৯ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়া থেকে ওয়াসিম নামে এক ট্রাক চালককে গ্রেফতার করে সিআইডি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়, লিমাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ওয়াসিম। তিনি প্রাথামিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে বলেছেন, পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক। গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করা টাকার বেশিরভাগ নষ্ট হয় জুয়া খেলে। সংসার চালাতে কষ্ট হয়। এজন্য প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী জাহিদ হোসেনের স্ত্রী লিমা আক্তারের কাছ থেকে প্রায়ই টাকা ধার নিতেন। কিন্তু কখনো তা পরিশোধ করতেন না।
এভাবে লিমার কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ধার নেন ওয়াসিম। এর মধ্যে লিমার স্বামী জাহিদের দেশে ফেরার কথা। লিমা তাই টাকা চান। কিন্তু ওয়াসিম দিতে অপরাগ। লিমা তাই ওয়াসিমকে গ্রাম্য সালিশ বসানো এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলে ভয় দেখান।
জানা যায়, অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১২ এপ্রিল রাতে ওয়াসিম লিমার ঘরের সামনে যান। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে এসেছেন বলে জানান। লিমা দরজা খুললে তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে লিমার মাতায় নিজের হাতে থাকা ইট দিয়ে আঘাত করতে থাকেন ওয়াসিম। লিমা আঘাতে মাটিতে গড়িয়ে পড়েন। এই সময় লিমার ৪ বছরের সন্তান চিৎকার শুরু করলে ওয়াসিম পালিয়ে যান।