শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

পাঁচটি পরিস্থিতি আসার পূর্বেই পাঁচটি পদক্ষেপ নিন

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 11 আগস্ট 2021, 08:31 সকাল • 333 বার পঠিত
পাঁচটি পরিস্থিতি আসার পূর্বেই পাঁচটি পদক্ষেপ নিন

সময় চলে যাচ্ছে। দুনিয়া আমাদের পিঠ দেখিয়ে বিদায় নিচ্ছে অন্যদিকে আখেরাত সূর্যের আলোর ন্যায় আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। এজন্য আল্লাহ সময়ের কসম করেছেন। প্রবাদ আছে, সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। চোখের পলক পড়তে না পড়তে সময় বদলে যায়। দিনের কাজ শুরু হতে না হতেই রাত নেমে আসে। সময়ের এই দ্রুত চলে যাওয়া এবং মানুষের ভাবনার বিষয়টি কুর’আনেও উল্লেখ করা হয়েছে,  

তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন। (সূরা মু’মিনুন, আয়াত- ১১৩)

তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। (সূরা কাহাফ, আয়াত- ১৯)

সময়ের এই দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে রাসূল (সা.) আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব প্রদানের জন্য উপদেশ দিয়েছেন। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন,

“পাঁচটি অবস্থার সন্মুখীন হওয়ার পূর্বেই তার যথার্থ মূল্যায়ন কর; তোমার বার্ধক্যের পূর্বে তোমার যৌবনের, তোমার অসুস্থতার পূর্বে তোমার সুস্থতার, তোমার অসচ্ছলতার পূর্বে তোমার সচ্ছলতার, তোমার ব্যস্ততার পূর্বে তোমার অবকাশের এবং তোমার মৃত্যুর পূর্বে তোমার জীবনের।”

বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনের
যৌবনে একজন ব্যক্তির যে শারীরিক সামর্থ্য থাকে, বার্ধক্যে এসে তা অনেকাংশে হ্রাস পায়। ফলে একজন ব্যক্তি যৌবনে যে কাজ করতে পারে, বার্ধক্যে তা প্রায়শই সম্ভব হয়না। সুতরাং যৌবনে যে কাজ করা সম্ভব, তা বার্ধক্যের জন্য ফেলা রাখা হবে সম্পূর্ণরূপে মূর্খতার কাজ।  

অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার
একজন বিশ্বাসীর সর্বদাই তার সুস্থতার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়, তখনই সে বুঝে তার সুস্থতার গুরুত্ব কতটুকু। একজন যুবকও যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সেও কোনো কাজ সঠিকভাবে করতে পারেনা। সুতরাং, আমাদের সর্বদাই সুস্থতার গুরুত্ব প্রদান করা উচিত।

অসচ্ছলতার পূর্বে সচ্ছলতার
সম্পদ আল্লাহর আরো একটি বড় নেয়ামত। একজন সচ্ছল ব্যক্তি তার সম্পদের সাহায্যে তার সমাজের জন্য উপকারী অনেক কাজ করতে পারে। সুতরাং, আল্লাহ আমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন, তা আল্লাহ আমাদের কাছ  থেকে ফেরত নিয়ে যাবার পূর্বেই আমাদের এই সম্পদকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানুষের উপকারে লাগানো উচিত।

যারা আল্লাহর দেওয়া সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগায়, তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন,

যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মত, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। আল্লাহ অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ। (সূরা বাকারা, আয়াত- ২৬১)

ব্যস্ততার পূর্বে অবকাশের
অবকাশ আল্লাহর দেওয়া অপর একটি নেয়ামত। আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে পাওয়া অবকাশকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। কোনো প্রকার বাজে কাজে এই মূল্যবান সময়কে যদি কেউ নষ্ট করে,  তবে তা হবে তার জন্য ক্ষতির কারণ।

মৃত্যুর পূর্বে জীবনের
রাসূল (সা.) এর হাদীসে সর্বশেষ যে বিষয়টির গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে, তা হলো মৃত্যুর পূর্বে জীবনের। প্রতিটি নতুন দিনই আমাদের জন্য এক একটি নতুন সুযোগ। একটি নতুন দিন নতুন করে উত্তম কাজ করার সু্যোগ সৃষ্টি করে।

কিন্তু এই জীবনযাত্রা শেষ হয়ে যেতে পারে মুহূর্তের ব্যবধানে। সুতরাং, আজকের জন্য যে কাজ করে রাখা জরুরী, তা আগামীদিনের জন্য ফেলে রাখা উচিত হবেনা। কেননা, এই আগামীদিনটি হয়তো নাও আসতে পারে।  

রাসূল (সা.) বলেছেন,

“তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির সাথে কবর পর্যন্ত যায়। এরমধ্যে দুইটি ফিরে আসে এবং একটি মৃত ব্যক্তির সাথে তার কবরেই রয়ে যায়। ফিরে আসা দুটি বস্তু হলো তার পরিবার ও সম্পদ এবং তার সাথে রয়ে যাওয়া বস্তুটি হচ্ছে ব্যক্তির নিজ আমল (কৃতকর্ম)।” (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং আমাদের উচিত, মৃত্যুর পূর্বে মূল্যবান এই সময়কে উত্তম পন্থায় কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা করা।

আল্লাহ আমাদের উপরোক্ত হাদীসটির আলোকে সময়কে গুরুত্ব প্রদানের বোধসম্পন্ন হওয়ার তৌফিক দান করুন।