অভাব–অনটনের চাপায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু
রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিখর গ্রামে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় এখনো শোক আর জনস্রোত। শুক্রবার সকালে কৃষক মিনারুল ইসলাম (৩৫), তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮), ছেলে মাহিন (১৩) ও মেয়ে মিথিলা (২)–এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে পাওয়া যায় দুই পৃষ্ঠার একটি চিরকুট, যেখানে লেখা ছিল— “আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, অভাব-অনটনে জর্জরিত হলেও মিনারুল বা তাঁর পরিবার কখনো কাউকে কিছু বলেননি। প্রতিবেশী মোক্তার হোসেন জানান, “দিনের পর দিন না খেয়ে থেকেও কারও কাছে হাত পাতেনি পরিবারটি। মিনারুল ছিল চাপা স্বভাবের, নিজের কষ্ট প্রকাশ করত না।”
মিনারুলের চাচা আবু তালেব বলেন, পরিবারে ঋণের চাপ ছিল, কিন্তু তাঁরা বুঝতেই পারেননি যে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ। আরেক প্রতিবেশী জানান, কয়েক দিন আগে মিনারুল টাকার জন্য ধার চাইতে এসেছিলেন।
এলাকাজুড়ে এখনো ভিড় লেগে আছে। অনেক দূর থেকে লোকজন ছুটে আসছেন এ ঘটনা দেখতে। পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের এক নারী বলেন, “অভাবের কারণে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করবে—এমন কথা আমরা কোনো দিন ভাবিনি।”
পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, ঋণ ও দারিদ্র্যের চাপে মিনারুল প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে নিজে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে—অপমৃত্যুর মামলা করেছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী এবং হত্যা মামলা করেছেন শাশুড়ি শিউলি বেগম। আজ শনিবার সকালে মিনারুল ও তাঁর ছেলে মাহিনের মরদেহ গ্রামে দাফন করা হয়, আর স্ত্রী ও কন্যার মরদেহ নিয়ে গেছেন শাশুড়ি।