অপরাজনীতির কবর রচনা করতে হবে—চট্টগ্রামে নুরের হুঁশিয়ারি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত এক পথসভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, “একদল যাবে, আরেকদল এসে দখল নেবে—এই অপরাজনীতির কবর রচনা করতে হবে।” তিনি বলেন, জনগণ আর চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি চায় না। এখন সময় এসেছে অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার।
রাজধানীর মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী যুবদলকর্মী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই খুন কোনো ছাত্র-জনতা করেনি, করেছে এক চাঁদাবাজ যুবদল কর্মী। সে ভেবেছে, খুন করে ভয় দেখিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এই সংস্কৃতি নব্বইয়ের পর থেকে জনগণ দেখে আসছে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি দেশে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং হবেও না।
নুর বলেন, “আমরা একবার শেখ হাসিনার মতো প্রতাপশালী শাসককে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে সরাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে যেন নতুন কোনো দৈত্য-দানব তৈরি না হয়, সে জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।” তিনি চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় ভুলে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। নুর মনে করেন, তা না হলে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর যে স্বপ্ন তারা দেখছেন, তা বাস্তবায়ন হবে না।
পরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘জুলাই বিপ্লব গণসমাবেশ’-এও নুরুল হক নুর একই বার্তা দেন। তিনি বলেন, “মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবার সুযোগ নেই। গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে গত ১১ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১১ হাজার সহিংস ঘটনা ঘটেছে। মিটফোর্ডের ঘটনা মিডিয়ায় এসেছে বলে আমরা জেনেছি, কিন্তু জেলা-উপজেলা, গ্রাম-গঞ্জে প্রতিদিনই এমন অনেক ঘটনা ঘটছে যা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আক্তার জামান সম্রাট এবং যুব অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক গাজী সুফিয়ান।
নুরুল হক নুরের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, বিরোধী দলেও যেসব দখলদার, চাঁদাবাজ ও সহিংস রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে—তাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে চান। তার মতে, ক্ষমতার পালাবদল নয়, প্রয়োজন রাজনীতির মানসিকতার আমূল পরিবর্তন।