অপচয়ের’ উদাহরণ দুই ভবন
প্রকল্পের নামে কীভাবে অর্থের অপচয় হচ্ছে, তার উদাহরণ হয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুদৃশ্য দুটি ভবন। ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবন দুটি অব্যবহৃত পড়ে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। দুই ভবনের একটি ডাক বিভাগের ডাক ভবন, অপরটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স।
দৃষ্টিনন্দন দুটি ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের যত আগ্রহ ছিল, এখন সেখানে যেতে ততটাই অনাগ্রহ। ফলে দুই বছর ধরে অযত্ন–অবহেলায় পড়ে থাকা ভবন দুটি রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। ধুলাবালির আস্তরণ পড়েছে ভবন ও চারপাশের দেয়ালে। কবে নাগাদ দৃষ্টিনন্দন আধুনিক এ দুই ভবন ব্যবহার শুরু হবে, তা–ও কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না। যদিও মন্ত্রণালয় ও ডাক বিভাগ বলছে, ভবন দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এ দুই ভবনের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স নামের ভবনটি নির্বাচন কমিশন ভবনের পেছনে। ১৩ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবনটির নির্মাণকাজ ২০১৪ সালে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৯ সালে। এটি তৈরিতে খরচ হয় ২২২ কোটি টাকা। দেশের বিজ্ঞানীদের একটি প্ল্যাটফর্ম করার পাশাপাশি সচিবালয় থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ভবনটি করা হয়েছিল। কিন্তু ভবন তৈরির পর এখন সেখানে যেতে আগ্রহী নন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের সামনেই ডাক ভবন। লাল রঙের ১৪ তলা সুদৃশ্য ভবনটি যে কারও নজর কাড়বে প্রথম দেখায়। ভবনটি করা হয়েছে ডাকবাক্সের আদলে। পৌনে এক একর জায়গার ওপর ৯২ কোটি টাকা খরচে তৈরি এ ভবনটির কাজও শেষ হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। ডাক বিভাগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেখানে যেতে রাজি হচ্ছেন না ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারের দুটি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন নতুন ভবনে যেতে রাজি হচ্ছে না? এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, আগারগাঁওয়ে নতুন ভবনে গেলে সচিবালয় থেকে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। এতে সচিবালয়কেন্দ্রিক যে সুবিধা তাঁরা ভোগ করেন, তাতে ছেদ পড়বে। আবার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবশালী একটি অংশের চিন্তা সচিবালয় থেকে আগারগাঁওয়ের দূরত্ব নিয়ে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ে অফিস করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আগারগাঁওমুখী হওয়ার ঝক্কি পোহাতে চান না।