শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক শুরু: নতুন পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 12 এপ্রিল 2025, 11:17 রাত • 380 বার পঠিত
ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক শুরু: নতুন পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনা

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত আলোচনা শুরু হয়েছে ওমানের রাজধানী মাসকটে। শনিবারের এই বৈঠককে নতুন একটি চুক্তির পথে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, যিনি ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আমরা একটি ন্যায্য ও সম্মানজনক চুক্তি চাই। যদি অপর পক্ষও সমান অবস্থানে থেকে আসে, তাহলে বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, দু’পক্ষ একই কক্ষে সরাসরি আলোচনায় বসেছে কি না।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি সেই সময় থেকে ইরানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত একটি চুক্তি করার প্রত্যাশা করে আসছেন।

তবে এতদিন ইরান পুরনো চুক্তির বিকল্পে নতুন আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। এবার আলোচনায় বসা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উভয় পক্ষই কৌশলগত কারণে নমনীয় হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্ত হলো— ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না। অন্যদিকে, ইরান চাইছে— নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখা হোক, তবে পুরোপুরি নির্মূল নয়।

এই প্রেক্ষাপটে, আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে একটি বাস্তবসম্মত কর্মকাঠামো তৈরি করা, যাতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান বজায় রেখে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

আলোচনার সফলতা যেমন আশাবাদের বাতাবরণ তৈরি করছে, তেমনি ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আগেই ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে ইরানও সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মাসকটের এই বৈঠক কেবল কূটনৈতিক প্রয়াস নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত।

শনিবারের বৈঠকে সম্ভাব্য একটি আলোচনার কাঠামো গঠনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেখান থেকে ভবিষ্যতের আরও ব্যাপক আলোচনা এবং একটি চুক্তির খসড়া তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল এখন তাকিয়ে আছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আসলে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, এবং একটি টেকসই চুক্তির পথে কতটা এগোতে পারে।