শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা নিয়ে ভোগান্তিতে গ্রাহক

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 26 মার্চ 2022, 07:43 বিকাল • 348 বার পঠিত
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা নিয়ে ভোগান্তিতে গ্রাহক

শনিবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন অনলাইন টিকিট কাটার ওয়েবসাইট www.eticket.railway.gov.bd তে ঢোকার চেষ্টা করা হলো। কয়েক দফায় ব্যর্থ। ব্রাউজার বদলেও কাজ হলো না। ‘সহজ’ এর মাধ্যমে ট্রেনের নতুন ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর দিনই গ্রাহকরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের এই নতুন ই-টিকিট সার্ভিস প্রোভাইডার ‘সহজ’। প্রথম দিনেই তাদের কাজটা কঠিন হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে নতুন ব্যবস্থায় ওয়েবসাইটে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ওটিপি, সাইট লোডিং ও সার্ভারের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এসব নিয়ে দিনভর নানা আলোচনা চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিযোগ চলছিল। 

দেশের প্রভাবশালী একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা যায় সহজ লিমিটেড দাবি করছে যে তারা প্রথম দিনেই ‘সাইবার হামলা’র শিকার হয়েছেন। তাদের ইঞ্জিনিয়াররা সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন। 

সাইবার হামলা না কারিগরি কোনো জটিলতা তা তো নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবশ্য জানা যাচ্ছে, সাইবার হামলার কথা তারা প্রথম শুনলেন। তারা মনে করছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তারা বলেন, সবাই যে টিকিট পায়নি তা না। অনেকে পেয়েছে। অনেকে পায়নি। সার্ভারের সমস্যার কথা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ। 

ট্রেনের অনলাইন টিকেটিংয়ের কাজটি এতদিন করে আসছিল সিএনএস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ টিকিট কাটতে পারছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওই কাজটি পেয়েছে সহজ, সিনেসিস ও ভিনসেনের জয়েন্ট ভেঞ্চার। গেল ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি হয়। 

এই জটিলতায় ২১ থেকে ২৫ মার্চ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ ছিল। সেটি অবশ্য রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন আগেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, ওই কদিন কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রির পর নতুন ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাবে। 

আজ সেই ব্যবস্থায় টিকিট পাওয়ার প্রথম দিন ছিল। তবে কোনো অ্যাপে না। অনলাইন টিকিটের জন্য ওয়েবসাইট করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৯৯৪ সালে কম্পিউটারভিত্তিক টিকেটিং সিস্টেম চালু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ২৭টি স্টেশনে কম্পিউটারাইজড টিকেট বিক্রি শুরু হয়। বর্তমানে ১০৪টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট ৭৭টি স্টেশনে কম্পিউটারের মাধ্যমে ইস্যু করা হচ্ছে।

দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ও মাসিক প্রায় ২৭ লাখ যাত্রীর টিকিট কম্পিউটারের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। এ সব টিকিটের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩ লাখ টিকিট অনলাইন/মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে  দেওয়া হয়।