শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

নয়াহাটে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 10 মার্চ 2025, 11:18 দুপুর • 264 বার পঠিত
নয়াহাটে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ার নয়াহাট বাজারে দোকান বন্ধের সময় স্ত্রীর সামনে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের সদস্যরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

রবিবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীকে দ্রুত সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের পরিচয়
নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ দাস (৪৮) সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নয়াহাট বাজারে 'দিলীপ স্বর্ণালয়' নামের একটি সোনার দোকানের মালিক ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দিলীপ দাস দোকান বন্ধ করে বের হওয়ার সময় চারজন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে তাকে আঘাত করে। তিনি সামনে ঘুরতেই ফের আঘাত করা হয়। তার হাতে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় দিলীপ দাসের স্ত্রী তার সঙ্গে ছিলেন। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে তিন-চারজন দৌড়ে এসে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং দিলীপের হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তারা দিলীপকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং আরও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

স্বজনদের বক্তব্য
নিহতের ফুফাতো ভাই খোকন সরকার বলেন, 'সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দিলীপ দোকান বন্ধ করে বাসায় গিয়েছিলেন। পরে ওষুধ কেনার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবার বাজারে আসেন। তিনি পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে স্বর্ণের চেইন বিক্রি করেন। দোকান বন্ধ করে শাটার নামানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে ১৫-২০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল।'

দিলীপের স্ত্রী সরস্বতী দাস বলেন, 'দোকান বন্ধ করে আমরা বাসায় যাচ্ছিলাম। ওর হাতে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। হঠাৎ দৌড়ে এসে ওকে কুপিয়ে সব নিয়ে গেল!'

হাসপাতাল সূত্রের তথ্য
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেরাজুর রেহান জানান, রাত ১০টার দিকে মারাত্মক আহত অবস্থায় দিলীপ দাসকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকে গভীর ক্ষত ছিল, গালের ডান পাশে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পুলিশের তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।