শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

নতুন পে-স্কেলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি আছে

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 01 সেপ্টেম্বর 2026, 07:47 সকাল • 73 বার পঠিত
নতুন পে-স্কেলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি আছে

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হবে বিষয়টি এমন নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন পে-স্কেলের ফলে বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে এবং তা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটিকে সহনীয় বলা যায়।

কিন্তু দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ২ অঙ্কে ছিল এবং তা ১০ শতাংশের বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে অবশ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।

তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতনস্কেলে সবার বেতন একসঙ্গে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।

উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতনস্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

‘নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে’ এমন তথ্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখে মনে হতে পারে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বাস্তবে তা নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জাহেদ উর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা নীতিগত বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি যখন হয়, তখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যত বেশি সুবিধা দেওয়া যায়, সরকার সেই চেষ্টা করছে।

এ প্রসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে। বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে প্রায় নিখুঁত একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৪০ লাখ পরিবারের প্রতিটিতে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এ সহায়তার আওতায় আসবেন। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এসব মানুষের কাছে প্রতি মাসে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদ্যুতের সংকট কমে এলে বিনিয়োগ বাড়বে। এর ফলে মানুষের কষ্টও কমে আসবে।