নিউ মার্কেটে সাংবাদিকদের পেটালেন ব্যবসায়ীরা
রাজধানীর নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত এলাকায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কর্মচারী-ব্যবসায়ীদের রোষের শিকার হলেন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা সঠিক সংবাদ প্রকাশ করে না দাবি করে কয়েকজন সাংবাদিককে আজ দুপুরে পিটিয়েছে তারা। এদিকে, নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজেন শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ থেকে থেকে চলছিল।
সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে আসা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক পিটুনির শিকার হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে গিয়েছেন কয়েকজন। ব্যবসায়ীদের হাতে মার খেয়েছেন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের অন্তত তিনজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপারসন। সময় টিভি ও এসএ টিভির দুজন সাংবাদিক রয়েছেন এর মধ্যে।
নিউ মার্কেট থেকে নীলক্ষেত মোড়ে এনে সময় টিভির সাংবাদিককে পেটানো হয়েছে। এসএ টিভির ক্যামেরাপারসনের মাথা ফেটেছে। দীপ্ত টেলিভিশনের সাংবাদিক আসিফ সুমিত, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক শাহেদ শফিক, আরটিভির ক্যামেরাপারসন সুমন দে ব্যবসায়ী পক্ষের হাতে মার খেয়েছেন। আসিফ সুমিত মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন।
আহত বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক শাহেদ শফিক জানান, তিনি নিউমার্কেট ফুটওভার ব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দেখতে পান দীপ্ত টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন এবং প্রতিবেদককে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা রড দিয়ে মারছে। তিনি তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা তার ওপরও চড়াও হয়। পরে শাহেদ শফিকসহ তিনজন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য যান।
প্রসঙ্গত, সোমবার মধ্যরাতে প্রথম নিউ মার্কেটের দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে পার্শবর্তী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। রাত ১২টার দিকে এর শুরু। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শেষে আড়াইটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, নিউ মার্কেটে পোশাক কিনতে গিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দোকানকর্মীদের মারধরের শিকার হন তিন ছাত্র। সেখান থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। মিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় টায়ার কাঠসহ বিভিন্ন কিছু পোড়ানো হয়। দুই পক্ষের মধ্যে বৃষ্টির মত ঢিল ছোড়াছুড়ি চলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ছোড়ে। ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সকাল থেকে সেই সংঘর্ষের জেরে মারামারি চলছিল দফায় দফায়।