নিউ মার্কেটে মামলার ১ নম্বর আসামি বিএনপির সাবেক সভাপতি
নব্বইয়ের দশকে সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে নিউ মার্কেটে দুটি দোকান বরাদ্দ নেন। পরে সে দুটি ভাড়া দিয়ে দেন। এই দুটি দোকানই আলোচিত ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড। এই দুই দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে ঝামেলার জের ধরে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুদিন ধরে লঙ্কাকাণ্ড হয়ে গেল। আর ওই দুই দোকানের মালিক মকবুল হোসেন এখন পুলিশের করা মামলার এক নম্বর আসামি।
মকবুল হোসেন নিউ মার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। নিউ মার্কেটে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জখম ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে পুলিশ যে মামলা করেছে সেটির ১ নম্বর আসামী মকবুল। এই মামলায় আরো ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া মামলাটিতে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে নিউ মার্কেটের দুই থেকে তিনশ কর্মচারী-ব্যবসায়ী এবং ঢাকা কলেজের ৬ থেকে ৭ শ ছাত্রকে।
ওই মামলার ১ নম্বর আসামী মকবুল হোসেন বলেছেন, তিনি বিষয়টা জানতে পেরেছেন। তবে এর সঙ্গে বলেন, গেল চার মাসে তিনি ওই এলাকাতেই যাননি। আর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, জখম, ভাঙচুরের তো প্রশ্নই আসে না।
এদিকে ঢাকা কলেজের যে তিন ছাত্রের সঙ্গে ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্ট ফুডের দোকানীদের সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল তাদের ব্যাপারে পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে।
সোমবার রাতে নিউ মার্কেট এলাকার দোকানে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। তা নিয়ে সে রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দোকান কর্মচারী-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সারাদিন যান চলাচল বন্ধ থাকে। এলাকার সব মার্কেট বন্ধ থাকে। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অনেকে আহত হন। নাহিদ হোসেন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান।
সংঘর্ষ থামাতে ঢাকা কলেজ কৃর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে। বিকেলের মধ্যে ছাত্রদের আবাসিক হল খালি করে দিতে বলে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কলেজের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রাবাসে থেকে যান।
ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা সংহতি ঘোষণা করেন। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে নিউ মার্কেট এলাকার পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। বিকেল ৩টার দিকে মার্কেটও খুলতে শুরু করে। কিন্তু বিকেল ৫টার আগে ওই এলাকায় ডজনখানেক হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এরপর আবার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীরা রাতভর বৈঠক করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর পর বৃহস্পতিবার মার্কেট খোলা হয়।
এর মধ্যে মঙ্গলবার সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত মোরসালিন নামের এক দোকান কর্মচারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বৃহস্পতিবার ভোরে।