নিউ মার্কেট এলাকা শান্ত
সকাল থেকেই মিরপুর রোডে গাড়ি চলছে। আসলে এই যান চলাচল শুরু হয়েছে আগের রাত ১০টার পর থেকে। আর এই সকালে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বা নিউ মার্কেটের দোকান কর্মচারী-ব্যবসায়ীদের কেউ পথে নেই। নেই কোনো সংঘাত। আগের দিন এটা যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল তাও বোঝার উপায় নেই তাই।
একটু ব্যবধান আছে। এই এলাকায় এখন বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেছেন, এই এলাকার পরিস্থিতি আজ শান্ত আছে। যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে মার্কেটগুলো বন্ধ আছে।
মার্কেটগুলো বলতে নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত বাজার, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনি চক ইত্যাদি। খোঁজ নিতে গেলে এইসব মার্কেটের কর্মচারী-ব্যবসায়ীদের দেখা পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা তারাও জানেন না আজ মার্কেট খুলবে কি না।
সোমবার রাত থেকে এই এলাকায় যেন যুদ্ধ চলছিল। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেদিন রাতে আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছিল নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তা বেড়ে যায়। দুই পক্ষ একে অন্যের সঙ্গে তীব্র আক্রোশ নিয়ে সংঘর্ষে মেতেছে। পথ ছাড়েনি কেউ।
দুই পক্ষের বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়েছে অনেককে। সাংবাদিকদেরও পিটিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নাহিদ হোসেন নামের এক পথচারী এই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি সেখানে মারা গেছেন।
এদিকে ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস এই ঘটনায় বন্ধ করে ছাত্রদের মঙ্গলবার বিকেলেই আবাসিক হল খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই নির্দেশ কলেজ ছাত্ররা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বুধবার সকালে সরেজমিনে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি। অনেকেই গত দুই দিনের ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের সেবা করছেন রুমমেট ও হলের ছাত্ররা।