নিখোঁজ ইন্দোনেশিয়ান সাবমেরিন অনুসন্ধানের রেস
ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন ৫৩ জন নাবিকসহ গত বুধবার বালি দ্বীপ থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার উত্তরে মহড়ার সময় নিখোঁজ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেআরআই নাংগালা-৪০২ নামের সাবমেরিনটি ওই বালি দ্বীপের উত্তরে একটি প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। এরপর থেকে সেটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান জানান, সাবমেরিনটি অনুসন্ধানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৪:৩০ মিনিটে এক লাইভ টর্পেডো প্রশিক্ষণের সময় সাবমেরিনটিকে সাগরের গভীরে ডাইভ দেয়ার অনুমতি দেয়ার পর সেটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর নির্ধারিত সময়ে টর্পেডো ফায়ারিংয়ের কোনো ফলাফল সাবমেরিন থেকে না আসায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনী সাবমেরিনটির নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে, দেশটির নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩৭ মিনিটে সাবমেরিনটি উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সাবমেরিন এস্কেপ এবং রেসকিউ যোগাযোগ অফিসে এক জরুরি বার্তা পাঠায় । এই বার্তাটির ফলে সাবমেরিনটি উদ্ধারের জন্য সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া জাহাজ পাঠিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এরই মধ্যে সাবমেরিনটি উদ্ধারে ছয়টি যুদ্ধ জাহাজ, একটি হেলিকপ্টার ও চারশ জন উদ্ধারকর্মীকে নিয়োজিত করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর ফার্স্ট অ্যাডমিরাল জুলিয়াস উইদজোজোনো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, নৌবাহিনী সাবমেরিনটির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। আমরা এলাকাটি ভালোভাবে চিনি। তবে এই এলাকায় গভীরতা অনেক বেশি।
এরইমধ্যে নৌবাহিনীর তৎপরতায় সাবমেরিনের প্রাথমিক ডুবে যাওয়া স্থানে কিছু ভাসমান তেলের আলামত পাওয়া গেলেও সেটি নিখোঁজ সাবমেরিন এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও সাবমেরিনটির সর্বোচ্চ ডুবের গভীরতা ২৫০ মিটার তবে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ এলাকার পানির গভীরতা প্রায় ৬০০-৭০০ মিটার।
নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে সাবমেরিনের যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি ছিল কিনা সেটি পরিস্কার করে জানতে আরো অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। অথচ সাবমেরিনের ৫৩ জন ক্রুর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মজুদ ফুরিয়ে যাবে আর মাত্র ২৪ ঘন্টা পরেই!
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার পাঁচটি সাবমেরিন রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি এটি। সত্তর দশকের দিকে এই সাবমেরিন তৈরি হয়। ২০১২ সালের আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই বছর ধরে এটি মেরামত করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বিবিসি বলেন, এই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার কোনো সাবমেরিন নিখোঁজের ঘটনা ঘটল।
তবে সাবমেরনি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার সেনাবাহিনীর একটি সাবমেরিন ৪৪ জন নাবিকসহ নিখোঁজ হয়। এক বছর পরে এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা ওই সাবমেরিনে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।