নেত্রকোণায় হাওরের নদী থেকে তিন মাছ শিকারির লাশ উদ্ধার
মাছ শিকারের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিকারিদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের দুই দিন পর নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি উপজেলার হাওরের একটি নদী থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার নাওটানার পাশে আশালিয়া ঘাট ধনু নদী থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে খালিয়াজুড়ি থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান।
এর মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- আটপাড়া উপজেলার স্বরমশিয়া গ্রামের শহীদ মিয়া এবং কেন্দুয়া উপজেলার বোয়ালিবাড়ী গ্রামের হৃদয় মিয়া।
শনিবার খালিয়াজুড়ি উপজেলার দুটি জলমহালের মাছ ‘লুটের চেষ্টা’ হয়েছিল বলে ইজারাদাররা অভিযোগ করেন। বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক পরিবহনে করে হাজারো মানুষ কাঁঠালজান ও মরাগাঙ্গে মাছ ধরার জন্য ধনু নদীর পাড়ে জড়ো হন। দুটিই সরকারি ইজারার অংশ।
শিকারীরদের হাতে ছিল মাছ ধরার উপাদান ও দেশীয় নানা অস্ত্র। পরে এলাকাবাসী তাদের প্রতিরোধ করে এবং এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় রসুলপুর ফেরি ঘাটে বিক্ষুব্ধ লোকজন শিকারিদের শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোকজন আহত হন। উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওসি মকবুল হাসেন বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার ওই তিনজন নদী সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পার হতে না পেরে তারা ডুবে মারা যান।”
এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।