নেপালে বিধ্বস্ত বিমানের সন্ধান, ১৪ লাশ উদ্ধার
২২ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত নেপালের উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই খবর জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের আশংকা উড়োজাহাজে থাকা ২২ জনের কেউ বেঁচে নেই। আর স্থানীয় মিডিয়ার খবর, ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানটি থেকে ১৪ জনের লাশ বের করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো মরদেহর এমন বিভৎস অবস্থা যে চেনার কোনো উপায় নেই।
সোমবার সকালে বিমানটির সন্ধান মেলে। আর রোববার সকাল এটি হারায়। পোখারা থেকে উড়ে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। আরো পরে পাইলটের মোবাইলের জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে উড়োজাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
মাস্তাং নামের একটি এলাকায় বিমানটির সন্ধান মেলে। নেপাল সেনাবাহিনীর ১৫ সদস্য উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছে। সুউচ্চ পাহাড়ি এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সেখানে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
‘‘আমাদের সন্দেহ হচ্ছে যে বিমানের কোনো যাত্রী আর বেঁচে নেই। আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হচ্ছে প্লেন ক্র্যাশ হওয়ায় কেউ বাঁচতে পারেননি। তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো আসেনি-’’ নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাদিন্দ্রা মানি পোখরেল এই কথা বলেছেন একটি বার্তা সংস্থাকে।
বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটি খুব বাজেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এর বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
‘‘এখন পর্যন্ত ১৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। আবহাওয়ার অবস্থা খুব বাজে। কিন্তু যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে আমরা উদ্ধার দল নিয়ে যেতে পেরেছি-’ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র দেও চন্দ্রা লাল কার্ন এএফপিকে বলেছেন এই কথা।
আর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন ইন্টান্যাশনাল এয়ারপোর্টের মুখপাত্র টেক রাজ সিতাউলা জানিয়েছেন, ‘‘মৃতদের কাউকে কাউকে চেনার কোনো উপায় নেই। পুলিশ শরীরের বিচ্ছিন্ন অংশ এক করছে।’’
এয়ারলাইন মুখপাত্র সুদর্শন বরতৌলা জানান, নেপালি ক্যারিয়ার তারা এয়ারের বিমানটিতে ১৯ জন যাত্রী এবং তিনজন ক্রু ছিল। যাত্রীদের মধ্যে দুজন জার্মান, চারজন ভারতীয় এবং বাদ বাকিরা নেপালী।
এয়ারলাইন সূত্রে বলা হয়েছে, বিমানটি রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে জমসনের উদ্দেশ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় পোখারা শহর থেকে যাত্রা করে। কিন্তু ১৫ মিনিটের মধ্যে এয়ার ট্রাফিকের সাথে বিমানটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২শ’ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জমসম হিমালয় আরোহীদের জন্য একটি জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য। পোখারা থেকে বিমানে করে জমসম যেতে ২০ মিনিট সময় লাগে।