নারায়ণগঞ্জে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাজারে দাম চড়া
নারায়ণগঞ্জ শহরের বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা বাজার দিগুবাবুর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দাম রাখা হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজারের অন্তত ১২টি দোকানে তেলের খোঁজ করলে নয়টি দোকানে তেল পাওয়া যায়নি। বাকি তিনটি দোকানে লিটারপ্রতি অন্তত ২০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানির ডিলাররা কয়েকদিন ধরে সয়াবিন তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন, ফলে তারা তেলের সংকটে পড়েছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছেন।
একজন ক্রেতা জানান, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ে লেখা মূল্য ৮৫০ টাকা থাকলেও দোকানিরা সেটি এক হাজার ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। এক ও দুই লিটারের বোতলগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে এক দোকানির কাছে অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাজারে তেলের সরবরাহ নেই। ডিলারদের কাছ থেকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি।”
এদিকে, তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, বাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে কিছু দোকানি ইচ্ছাকৃতভাবে মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তিনি জানান, দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রয়কর্মীরা ৩৩২ টাকায় সরবরাহ করছেন, যা ৩৫০ টাকায় বিক্রি করার কথা, কিন্তু দোকানিরা ৪১০ টাকা নিচ্ছেন।
নৈশপ্রহরী জামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজান মাসে তেলের চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু এখন দোকানিরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিতাইগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করায় মনির স্টোর নামে একটি পাইকারি দোকানের মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইদিন ফতুল্লার আরও দুটি দোকানকে জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, “রমজান মাসে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ জনগণ যদি এ ধরনের তথ্য পান, তাহলে প্রশাসনকে জানান।”