শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

নাফ নদী থেকে অপহৃত ২৯ জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 27 ফেব্রুয়ারি 2025, 10:40 রাত • 239 বার পঠিত
নাফ নদী থেকে অপহৃত ২৯ জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি

টেকনাফের নাফ নদী থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ২৯ জন জেলেকে অবশেষে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন, যারা টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বসবাস করতেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ট্রানজিট জেটি ঘাট দিয়ে এসব জেলেকে ফেরত আনা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিজিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা এখন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। ফলে নাফ নদীতে তাদের তৎপরতা বেড়েছে এবং বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাফ নদীর টেকনাফ জেটি ঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চারটি ট্রলারসহ ১৯ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নাফ নদীর মোহনা থেকে দুইটি ট্রলারসহ চার জেলেকে এবং ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত থেকে ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বিজিবি অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে আরাকান আর্মির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে। টানা প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২৯ জন জেলেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় বিজিবি।

বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, "নাফ নদী থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ফেরত আনতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি। অবশেষে সফলভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।"

বিজিবির একটি দল দুইটি কাঠের ট্রলার নিয়ে মিয়ানমারের মংডু টাউন শিফে গিয়ে বন্দি জেলেদের মুক্ত করে আনে। পরে টেকনাফে এনে বিজিবি তাদের তথ্য সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

মিয়ানমারে সংঘাত বাড়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। সব শেষ গত ১৫ অক্টোবরও বিজিবি অপহৃত ১৬ জন বাংলাদেশি জেলেকে উদ্ধার করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, "বিজিবির প্রচেষ্টায় ১৫ বাংলাদেশি ও ১৪ রোহিঙ্গাসহ মোট ২৯ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপহরণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।