মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পলায়নের খবরে বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি কারাগার থেকে পালিয়েছেন—এমন খবর প্রকাশের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ঘুরে মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ ও দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু ওবাইদা মায়াজ ও আরাফাত সাকিব লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির সময় বিচারপতির কাছে জানা যায়, মুনতাসির আল জেমি ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক। ফলে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে শহীদ আবরার ফাহাদের সঙ্গে প্রতারণা ও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন। ফাঁসির আসামির পলায়ন ন্যক্কারজনক ও লজ্জাজনক ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসী। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত তাদের মধ্যে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মুনতাসির আল জেমি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আবরার ফাহাদ হত্যায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, "ফাঁসির আসামিদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। অথচ মুনতাসির আল জেমি কীভাবে পালাল, তা আমাদের হতবাক করেছে। এটি শুধু শহীদ আবরার ফাহাদের রক্তের সঙ্গে নয়, পুরো জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। "সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে ।
শিক্ষার্থীরা কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "এই ঘটনায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে পারে না। আমরা দাবি জানাই, দ্রুত মুনতাসির আল জেমিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি তার পলায়নে সহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। "আবরার ফাইয়াজের ক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন শেষে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, "আমার ভাইয়ের খুনির পলায়নের জন্য রাষ্ট্র দায়ী। সরকার এ ঘটনা জেনেও চেপে রেখেছে। আজ হাইকোর্টে জানা গেছে, সে ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক। অথচ আমরা এতদিন কিছুই জানতাম না। এটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।"
তিনি আরও বলেন, "কোনো টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা সরকার ও কারা বিভাগ থেকে স্পষ্ট জবাব চাই। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক এবং পলায়নের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।"
বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আগে আবরার ফাইয়াজ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালানোর খবর প্রকাশ্যে আনেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।