মিয়ানমার থেকে অর্ধলাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের কারণে প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। গত শনিবার (১ মার্চ) কক্সবাজারের উখিয়ায় বিজিবির একটি নতুন ব্যাটালিয়ন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপদ থাকলেও আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার বাহিনীকে নিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, বিজিবি উভয়পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করছে এবং এক্ষেত্রে বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, "যত বাধাই আসুক, ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে ঢুকেছে"। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধে নতুন ব্যাটালিয়ন প্রয়োজন ছিল, যা এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "আমরা চাই, সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় থাকুক এবং মানুষ শান্তিতে থাকুক।" তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক ও সচেতন রয়েছে।
তিনি বলেন, "আরাকান আর্মি মিয়ানমার-বাংলাদেশ বর্ডারের বেশিরভাগ অংশ দখল করে রেখেছে" এবং এ বিষয়ে কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি দুটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে—একটি হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রবাহ, আরেকটি হচ্ছে মাদক চোরাচালান। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সীমান্তে ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
বিজিবি বাহিনীর সদ্য গঠিত ৬৪ বিজিবি, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব বৃদ্ধি, এবং আরও চারটি নতুন ব্যাটালিয়ন যোগ হওয়ার মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, বিজিবি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় বিজিবি এবং বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন হয়েছে, যেখানে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সীমান্ত হত্যা কমানোর চেষ্টার পরেও এমন ঘটনা ঘটে যায় বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, "বিজিবি মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসী ভূমিকা পালন করেছে" এবং তারাই দেশের সীমান্ত রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। তিনি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিয়ে আশাবাদী, যা ভবিষ্যতে মাদক ও সীমান্ত অপরাধ রোধে সাহায্য করবে।
তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী-শিশু পাচার রোধসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমন, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষাসহ সরকার কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খলার সঙ্গে পালন করে বিজিবির সুনাম ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবেন।