মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, রাচিতে বিক্ষোভে প্রাণ গেল দুজনের
ভারতের ঝাড়খন্ডের রাচিতে শুক্রবার মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। প্রায় ৩ ঘণ্টা চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সামলাতে রাচির বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এই ঘটনা ঘটেছে। এই প্রথম নুপুর শর্মা বিতর্কে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটল।
নুপুর শর্মা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার পর ভারতে ও মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। গতকাল ভারতের প্রায় প্রতি রাজ্যে জুমার নামাজের পর প্রতিবাদ হয়েছে। বিক্ষোভ হয়েছে।
গতকাল রাচির একটি মসজিদে জুমার নামাজের পর রাস্তায় নেমে আসেন শত শত প্রতিবাদী মানুষ। পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিতে গুলি চালায়। লাঠি চার্জ করে। তাতে ২ জন নিহত হন, আহত হন আরো ১০ জন।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। পুলিশ যখন কিছুতেই আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউ জারি করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমানে পুলিশ শহরটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ কারবালা চক ও দোরান্দার মূল সড়কে অবস্থান নেয়। এই ঘটনার কারণে শুক্রবার দুপুর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দোকানপাট বন্ধ আছে। রাচির দোরান্দা এলাকাতেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
শুক্রবার রাচির দোকানপাট বন্ধ করে মানুষ প্রতিবাদে যোগ দেন। তারা নুপুর শর্মা ও নাভিন জিন্দালের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পারতপক্ষে সকাল থেকেই শহরটির মূল মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। একটি মসজিদে জুমার নামাজ শেষ করে শত শত মুসল্লি রাস্তায় এসে দাঁড়ান। তারা বিজেপির ওই দুই বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
মানুষের এই ঢল রাস্তায় নামার পর পুলিশ তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া শুরু হয়। রাস্তার পাশে রাখা অনেক গাড়ি ও মোটরবাইক ভাংচুর করা হয়।
নুপুর শর্মা ঘটনার কেন্দ্রে। তিনি ছিলেন ভারতের ক্ষমাতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র। দিল্লির এই নেতা গত মাসের শেষ দিকে একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে বক্তব্য দেন। তার
মন্তব্যের সূত্র ধরে টু্ইটারে দিল্লির বিজেপি নেতা নাভিন জিন্দাল মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করেন। পরে তিনি টুইট মুছে ফেলেন।
কিন্তু বিশেষ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রথমে ভারতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কানপুরে গত শুক্রবার (৩ জুন) জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ৪ জুন থেকে মূলত মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারদের ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ভারতকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিছু দেশ ভারতকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে।
আরব বিশ্বে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায়। আর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ তো চলমান।
মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে খুব চাপে পড়ার পর বিজেপি গত ৫ জুন নুপুর শর্মাকে সাময়ীক বরখাস্ত করে। আর নাভিন জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় দুজনই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর দিল্লিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
কিন্তু মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। ওই দুজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় সরকারের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন খুব ঝামেলাপূর্ণ একটি অবস্থায় পড়ে গেছে।