মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, জুমার নামাজের পর ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ
আজ শুক্রবার। জুমার দিন। আর এই দিনে জুমার নামাজের পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বড় রকমের বিক্ষোভের খবর আসছে। প্রায় সব রাজ্যে প্রতিবাদ করেছেন মুসলমানরা। দিল্লি ও উত্তর প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের খবর এসেছে।
নুপুর শর্মাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় এসব বিক্ষোভে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। এখন অব্দি কোথাও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
দিল্লির বিখ্যাত জামে মসজিদের সামনে জুমার নামাজের পর শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। কারো কারো হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, কারো কাছে ব্যানার। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই সাবেক নেতা নুপুর শর্মা ও নাভিন জিন্দাল হযরত
মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করায় তাদের এই প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
জামে মসজিদের শাহি ইমাম জানিয়েছেন, তারা কোনো বিক্ষোভের ডাক দেননি। লোকজন স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
দিল্লি পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীদের অনেকে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করার পর সরে যান। অনেকে অবশ্য থেকে যান। প্রতিবাদ করতে থাকেন। মসজিদের সামনে শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ সমাবেশ ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্থায়ী হয় বলে জানায় পুলিশ।
‘‘বরখাস্ত হওয়া বিজেপি নেতা নুপুর শর্মা ও বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা নাভিন কুমার জিন্দালের বক্তব্যের প্রতিবাদে লোকজন জামে মসজিদে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে-’’ জানিয়েছে
দিল্লি পুলিশ।
আজ জুমার নামাজের পর লখনৌওতেও মুসলমানরা বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ হয়েছে সাহারানপুর, প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ), হায়দ্রাবাদ ও বিভিন্ন শহরে।
লখনৌওয়ের তিলে ওয়ালি মসজিদে প্রতিবাদ হয়েছে। হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদের বিক্ষোভ সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
কর্নাটকের বেলাগাভিতে বাশিবান দরগার সামনে নুপুর শর্মার একটি কুশ পুত্তলিকা ফাঁসির মতো করে ঝুলানো হয়েছে।
নুপুর শর্মা ছিলেন ভারতের ক্ষমাতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র। দিল্লির এই নেতা গত মাসের শেষ দিকে একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে বক্তব্য দেন। তার মন্তব্যের সূত্র ধরে টু্ইটারে
দিল্লির বিজেপি নেতা নাভিন জিন্দাল মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করেন। পরে তিনি টুইট মুছে ফেলেন।
কিন্তু বিশেষ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রথমে ভারতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কানপুরে গত শুক্রবার (৩ জুন) জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ৪ জুন থেকে মূলত মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারদের ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ভারতকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিছু দেশ ভারতকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে।
আরব বিশ্বে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায়। আর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ তো চলমান।
মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে খুব চাপে পড়ার পর বিজেপি গত ৫ জুন নুপুর শর্মাকে সাময়ীক বরখাস্ত করে। আর নাভিন জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় দুজনই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর দিল্লিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
কিন্তু মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। ওই দুজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় সরকারের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন খুব ঝামেলাপূর্ণ একটি অবস্থায় পড়ে গেছে।